রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে স্কুলছাত্র মো. সাকিব হাসান নিহতের ঘটনায় করা মামলায় তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর মোজাহিদুল ইসলাম তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তার রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত সোমবার কক্সবাজারের টেকনাফ থানা এলাকা থেকে যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আবুল হাসানকে টেকনাফ থেকে ঢাকায় আনা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. আবুল হাসান (৫২) মামলার এজাহারনামীয় ৯৩ নম্বর আসামি। মামলার বাদী মো. আবু বক্কর গত ১৮ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার কাজলা বিশ্ব রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিলেন। এ সময় ১ থেকে ২৫ নং পর্যন্ত আসামিদের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় অন্যান্য এজাহারনামীয় ২৬ থেকে ৪৪২ জন আসামিরা মারপিট ও গুলি বর্ষণ করে। গুলিতে ছাত্র মো, সাকিব হাসানসহ (২২) তাদের একাধিক লোকজন মৃত্যুবরণ ও আহত হন। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে নিহতদের যে যার মত করে নিয়ে দাফন কাজ সম্পন্ন করে। অনেকে এখনো চিকিৎসাধীন আছে। মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায় নাই। হাসপাতালে মৃত্যু সনদ সঠিকভাবে দেওয়া হয় নাই। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দখলবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুন, মাদক ব্যবসাসহ সব ধরণের অপরাধমূলক কার্যকলাপ করেছে। কোথাও কোনো অভিযোগ দিয়ে বিচার পাওয়া যায় নাই। পক্ষান্তরে যারা অভিযোগ দিয়ে তারা বর্ণীত আসামিদের দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে উক্ত আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত আবশ্যক।
গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৬৩নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের আহ্বায়ক আবু বকর যাত্রাবাড়ী থানায় এ মামলা করেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় গত ১৮ জুলাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৩ থেকে ৪ হাজার নেতাকর্মী এবং পুলিশের ওয়ারী ও যাত্রাবাড়ী থানার সদস্যরা ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এসময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, রড ও পিস্তল ছিল। ওই দিন বিকেল ৫টায় তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ও মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে মো. সাকিব হাসান মারা যায়।







