প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের জন্য বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিএনপি। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনায় অসন্তোষ জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব আপত্তির কথা জানায়।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দেশে প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক প্রথম লাইনে রাখা হয়েছে, অথচ বিএনপির নাম ও প্রতীক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ভাঁজ করলে বিএনপির নাম-প্রতীক চোখেই পড়বে না। এটা স্পষ্টতই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
নজরুল ইসলাম খান জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা সিইসির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যালট পেপারে নামের বিন্যাস অ্যালফাবেট অনুযায়ী করা হয়েছে। তবে বিএনপির দাবি, এটি ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এটি পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছি। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট সংশোধনের দাবি করেছি।”
প্রসঙ্গত, চলতি নির্বাচনে প্রবাসীসহ ১৫ লাখের বেশি ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।
এছাড়া বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে একটি ভাইরাল ভিডিওর বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ওই ভিডিওতে একটি বিশেষ দলের নেতাকর্মীদের বহু ব্যালট পেপার হ্যান্ডেল করতে দেখা গেছে।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনও ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত বলে জানিয়েছে এবং বিএনপি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে।
এদিকে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনায়ও আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকদের হলফনামায় নাগরিকত্ব পরিত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা থাকে। অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি না করার অনুরোধ জানিয়েছি। গত পনের বছরে নানা কারণে অনেক মানুষ বিদেশে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা দেশে ফিরেছেন। তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা উচিত হবে না।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কয়েকটি এলাকায় দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগের প্রমাণ উপস্থাপন না করায় কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার এবং পরে নির্বাচন কমিশন। এর প্রতিক্রিয়াতেই এসব মন্তব্য করেছে বিএনপি।








