মতবিনিময়ের জন্য ডেকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একপর্যায়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন টানা তিন বারের সাধারণ সম্পাদক। শেষ পর্যন্ত সভা শেষ না করেই ফ্লোর ছেড়ে নিজ অফিস কক্ষে চলে যান তিনি। এসময় সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা বাইরে বের হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া ‘ স্লোগান দিতে থাকেন।
বুধবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।
শুরুতেই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাককে সভাস্থলে দেখে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি সেখানে কী করছেন জানতে চান। আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে কেনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট করেছেন, সেটিও জানতে চান সাবেক নেতারা।
এরপর কর্মসূচি শুরু হলে ওবায়দুল কাদের আমন্ত্রিত নেতাদের কথা না শুনে সংবাদ সম্মেলনের মতো করে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে কর্মসূচি শেষ করতে চেয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের তোপের মুখে পড়েন তিনি।
বৈঠক উপস্থিত একাধিক ছাত্রনেতা জানান: সাবেক ছাত্রনেতাদের মতবিনিময় সভার জন্য ডেকে গণমাধ্যমের উদ্দেশে কথা বলা শুরু করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ সময় ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা হট্টগোল শুরু করেন। তারা ওবায়দুল কাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, তাদের ডেকেছেন, আগে তাদের কথা শুনবেন, আলোচনা করবেন। সেটি না করে কেন গণমাধ্যমের সামনে কথা বলা শুরু করেছেন?
এসময় উত্তেজিত হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেন: এরা কারা, এদের এখানে কে ডেকেছে।
একপর্যায়ে হট্টগোল শুরু হলে কথা বলা শেষ না করে ওবায়দুল কাদের তার অফিস কক্ষে চলে যান। তখন সাবেক নেতারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের নিচতলায় ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন তারা।
এর আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত সাবেক ছাত্রনেতাদের উদ্দেশে বলেন: অভিমান ভুলে কোটা আন্দোলনের নামে যারা নারকীয় ধ্বংস চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আওয়ামী লীগ দেখবে মাঠে কারা থাকে। পার্টি অফিসে বসে থাকতে দেওয়া হবে না।







