শুধু ব্যয় বাড়ালেই হবে না, ন্যাটোর দরকার কার্যকর প্রতিরক্ষা বাজার

নাটোরের নিরাপত্তা জোটের পতাকা বিভিন্ন দেশের পতাকা সহ উড়ছে আকাশে, নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার প্রতীক।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে কানাডার সামরিক শিল্প ছিল না বললেই চলে। কিন্তু মাত্র ছয় বছরের মধ্যে দেশটি হাজার হাজার বিমান, শত শত নৌযান এবং আট লাখের বেশি সামরিক যান উৎপাদন করে সামরিক-শিল্প শক্তিতে পরিণত হয়।
এই সাফল্যের পেছনে শুধু সরকারি ব্যয় নয় বরং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং শিল্প অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
বর্তমানে (উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা) ন্যাটো সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করলেই কাঙ্ক্ষিত সামরিক সক্ষমতা তৈরি হবে না। এর জন্য প্রয়োজন উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এমন একটি বাজার কাঠামো, যা দ্রুত বিনিয়োগকে বাস্তব সামরিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় ইউক্রেন দেখিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধে সাফল্যের জন্য আগাম অর্থায়ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল বিনিয়োগের কারণে দেশটি ড্রোন উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে এবং তুলনামূলক কম খরচের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যয়বহুল সামরিক সরঞ্জামের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর প্রধান সমস্যা অর্থ বা প্রযুক্তির ঘাটতি নয়; বরং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। দীর্ঘ সরবরাহ সময়, উৎপাদন ঘাটতি এবং দুর্বল সরবরাহ শৃঙ্খল প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিকল্পনা এবং নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আলোচনায় থাকা ‘ডিফেন্স, সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ব্যাংক’ (ডিএসআরবি) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগের অর্থায়ন সহজ করবে, বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করবে এবং উৎপাদন সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যয়কে কেবল খরচ হিসেবে না দেখে বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ শুধু নিরাপত্তা জোরদার করে না, এটি উৎপাদন, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তাদের মতে, কানাডার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে, শুধু অর্থ ব্যয় করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন প্রতিষ্ঠান ও বাজার কাঠামো, যা বিনিয়োগকে উৎপাদনে এবং উৎপাদনকে কার্যকর প্রতিরোধ সক্ষমতায় রূপান্তর করতে পারে। ন্যাটোর জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জও এটিই।
(আন্তর্জাতিক মিডিয়া সংস্থা ‘প্রজেক্ট সিন্ডিকেট (Project Syndicate) এর রিপোর্টের ভিত্তিতে মতামত আকারে লেখাটি প্রকাশিত হলো।)






