পুঁজিবাজারে বিদেশিদের বিনিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালায় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশি সরকারি-বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানে অনিবাসীদের (এনআরবি) ১০ লাখ টাকা (৮ হাজার ২০১ ডলার) পর্যন্ত বিনিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে না।
তবে নতুন নিয়মে কোনো বিদেশি নাগরিক কিংবা প্রতিষ্ঠানের ১০ লাখ টাকা মূল্যের বেশি বিনিয়োগ ব্যাংকিং চ্যানেলে বাধ্যতামূলকভাবে করতে হবে।
অনিবাসীদের বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ (এফইআইডি) এরই মধ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
সেখানে বিনিয়োগের শর্তে বলা হয়েছে: শেয়ার ইস্যু করার ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক বিনিয়োগ বিভাগে একটি ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। এরমধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।
সেখানে শেয়ারহোল্ডারের নাম-ঠিকানা, শেয়ারের সংখ্যা, ইস্যুর তারিখ, প্রতি শেয়ারের অভিহিত মূল্য, শেয়ার প্রিমিয়াম, অনলাইনে ব্যবহৃত রিপোর্টিং আইডি, ইস্যু করা শেয়ারের মোট মূল্যমান, বৈদেশিক মুদ্রায় বিনয়োগের পরিমাণ, বিনিয়োগ দেশে আনার তারিখ, বিনিয়োগকারীর দেশের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে।
এছাড়া সুইফটের মাধ্যমে লেনদেনের জন্য উপযুক্ত হিসাব নম্বর, খুদে বার্তার মাধ্যম হিসাবে ই-মেইল, স্বাক্ষর উল্লেখ করতে হবে।
শেয়ার ইস্যুর আগেই বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শেয়ারহোল্ডার এবং বিনিয়োগের উৎস ও দেশ উল্লেখ করতে হবে। দেশের অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের পাঠানো প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে ১৪ দিনের মধ্যে নির্দেশনা দেবে।
এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশে কার্যরত সকল বৈদেশিক মুদ্রার ডিলারদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন: ক্ষুদ্র বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সহজ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ছাড় দিয়েছে। তবে ১০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে আগের মতোই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (৬ মাস) দেশের নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহ ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসার প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত এলো। এ সময়ে দেশে নিট এফডিআই ছিল মাত্র ১০৪ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে: আগের অর্থবছরে একই সময়ে নিট এফডিআই প্রবাহ ছিল ৩৬১ মিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে এফডিআই প্রবাহ কমেছে ৭১ শতাংশ। জুলাই-আগস্ট গণ অভ্যুত্থান এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এমনটা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।







