এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
এবারের ঈদ যাত্রায় নেই ট্রেনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার চিত্র। নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেন। ফলে নির্বিঘ্নে বাড়ির পথে রওনা দিতে পারছেন যাত্রীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীচাপ ছিল। সময় মেনে ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগ একেবারেই কম ছিল বলে জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদযাত্রা ঈদযাত্রায় আন্তঃনগর, মেইল, কমিউটার মিলে প্রতিদিন ৫০ হাজারের বেশি যাত্রী পরিবহন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্বিঘ্ন করতে ১২০টি আন্তঃনগর ট্রেনের পাশাপাশি ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া লোকাল, কমিউটার ও মেইল ট্রেন স্বাভাবিকভাবে চলছে। পাশাপাশি ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখতে এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে ঢাকাগামী ৯টি ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। ঢাকামুখী ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা স্টেশন থেকে জয়দেবপুরমুখী ট্রেনে টিকেট ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে।
কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রীদের সহযোগিতা করতে স্টেশনে স্কাউট সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দালনের ব্যানারে স্টেশন প্রবেশ মুখে তথ্য সহায়তা কেন্দ্র ছিল। সেখানে ছাত্ররা ট্রেনযাত্রীদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে দেখা গেছে।
যাত্রীরা বলছেন, স্টেশনে ভোগান্তি ছাড়া এমন ঈদযাত্রা কমই পেয়েছেন। স্টেশনের ব্যবস্থাপনায় খুশি তারাও।
সিল্কসিটি ট্রেনের যাত্রী সোহেল রানা জানান, তিনি পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে রাজশাহী যাচ্ছেন। স্টেশনে প্রবেশ করেই দেখতে পান প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। খুব সহজে তারা ট্রেনে উঠতে পেরেছেন।
জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী জিল্লুল রহমান জানান, আগের মতো ঈদযাত্রায় ভোগান্তি নেই। বিগত বছরগুলোতে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে যে দুর্ভোগ হতো, সেটা নেই। শিডিউল বিপর্যয় না থাকায় প্লাটফর্মে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ও নেই। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন বলেও জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রী তাহমিদ জীবন বলেন, আমাদের ট্রেন সাড়ে ১০টায় স্টেশন ছাড়বে। সকাল ৯টায় এখানে এসেছি। সাড়ে ৯টায় দেখি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে চলে আসছে। আগে অনেক দেরি হতো। এক দুই ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়তো। এখন আর সেই ভোগান্তি নেই। সময়মতো ট্রেন ছাড়ছে। স্টেশনের ব্যবস্থাপনাও ভালো।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন জানান, ঈদ যাত্রায় প্রতিদিন ৭১টি ট্রেন চলাচল করছে। যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ উপহার দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে বদ্ধপরিকর। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সবচেয়ে বেশি ঘরমুখো মানুষ ট্রেনযোগে ঈদযাত্রা করেন। এছাড়া তিন স্তরের টিকেট চেকার বসানো এবং বিনা টিকেটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি রেল কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে না
রেলপথে ভোগান্তি নেই বলে জানিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন: কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার ভোগান্তি নেই। নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেন। ফলে নির্বিঘ্নে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছে যাত্রীরা। আমরা প্রতিটা সেকশনে লোকবল রেখেছি। কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। আশা করছি এবার ঈদ যাত্রায় পুরো সময় ধরে সময় অনুযায়ী ট্রেন চলাচল করবে।
এর আগে ঈদযাত্রায় ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। সেসময় তিনি বলেন, এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, স্টেশনে কোনো মই ও টুল থাকবে না। আশা করব, ২৭ তারিখ থেকে মই ও টুল আপনারা স্টেশনে দেখতে পাবেন না। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ঈদ। তাই এবার যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার বিষয়টি বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে।








