২০২৫ সালের অস্কারে সেরা ডকুমেন্টারি পুরস্কার জিতে নিয়েছে ‘নো আদার ল্যান্ড’— য িফিলিস্তিনিদের নিজ সম্প্রদায় রক্ষার সংগ্রামের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে।
ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নির্মাতাদের যৌথভাবে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে কর্মী বাসেল আদরার জীবন অনুসরণ করা হয়েছে, যিনি গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে তার নিজ শহরের ধ্বংসযজ্ঞের তথ্যচিত্র তৈরি করেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরের দক্ষিণ প্রান্তে তার শহরটিকে সামরিক প্রশিক্ষণ অঞ্চলে পরিণত করার জন্য ধ্বংস করছে। আদরার আবেদন প্রথমে উপেক্ষিত হলেও, পরবর্তীতে তিনি এক ইহুদি ইসরায়েলি সাংবাদিকের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন, যিনি তার গল্প বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে সাহায্য করেন।
পুরস্কার গ্রহণের সময় আদরা বলেন, “প্রায় দুই মাস আগে আমি বাবা হয়েছি, এবং আমি আশা করি আমার মেয়েকে যেন আমার মতো জীবন কাটাতে না হয়—সবসময় বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, সহিংসতা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও জোরপূর্বক স্থানান্তরের আতঙ্কে থাকতে না হয়।”
এমন বিশাল আসরে এই ছবির অস্কার পাওয়াকে ঐতিহাসিক জয় বলে মনে করছেন অনেকে। যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের দুঃখ-দুর্দশা ও প্রতিরোধের বার্তা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।
পুরস্কার লাভের আগেই অবশ্যই ফিলিস্তিনের পক্ষে রীতিমত প্রচারণা চালান চলচ্চিত্র নির্মাতা বাসেল আদরা। রবিবার লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের লাল গালিচায় ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানান তিনি ও তার টিম।
“নো আদার ল্যান্ড” চলচ্চিত্রের সহ-পরিচালক আদরা একজোড়া বিশেষ জুতা পরে উপস্থিত হন। যা একটি স্টার্টআপ ব্র্যান্ডের। এই ব্র্যান্ডটি তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছেন, এবং এতে দক্ষিণ হেব্রনের ফিলিস্তিনি নারীদের বোনা সূচিকর্ম রয়েছে। এই সূচিকর্ম পরিচালনা করেন তার মা, কিফাহ আদরা।
“এই ব্র্যান্ড আমার জনগণের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে”-আদরা ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন। যেখানে তিনি ব্র্যান্ডের কিকস্টার্টার পেজের লিঙ্কও শেয়ার করেন।
এছাড়া, আদরা এবং তার “নো আদার ল্যান্ড” টিমের সদস্যরা—হামদান বল্লাল, বাসেল আদরা, র্যাচেল সজর এবং ইউভাল আব্রাহাম—লাল গালিচায় ফিলিস্তিনি পতাকা ও কেফিয়েহ পরা ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তোলেন।
আদরা একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন না যিনি অস্কারের মঞ্চে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা গাই পিয়ার্স, যিনি “দ্য ব্রুটালিস্ট” চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন, তিনি তার কোটের ল্যাপেলে “ফ্রি প্যালেস্টাইন” লেখা একটি পিন পরেছিলেন, যাতে একটি কবুতরের চিত্রও ছিল।







