এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগে যে অযৌক্তিক উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন অ্যালফাবেট (গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান) এর প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই। তিনি বলেন, এআই বুদবুদ ফেটে গেলে কোন প্রতিষ্ঠানই এর প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে না, গুগলও নয়।
আজ (১৮ নভেম্বর) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ কমানো ও মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যে দ্রুত এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। গুগল নিজস্ব জেমিনি চ্যাটবট ও এআই চিপে বিপুল বিনিয়োগ করেছে, একইভাবে ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটও এই প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
এআই বুদবুদ ফেটে গেলে বিপদ!
সুন্দর পিচাই বলেন, আমি মনে করি, এআই বুদবুদ ফেটে গেলে কোনো কোম্পানি এর বাইরে থাকবে না, আমরাও না। ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছি অতিরিক্ত বিনিয়োগ হয়েছিল, কিন্তু এখন কেউ ইন্টারনেটের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে না। এআইও তেমনই হবে। বর্তমান সময়টি যুক্তিবোধের পাশাপাশি কিছু অযৌক্তিকতারও সময়।
পিচাইয়ের মতোই গত মাসে ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান স্বীকার করেন, এআই প্রযুক্তির কিছু অংশ বুদবুদময়।
এআই নিয়ে বুদবুদের গল্প লেখা প্রলুব্ধকর। আমি মনে করি বর্তমানে এআই-এর বাস্তবেই কিছু অংশ বেশ বুদবুদপূর্ণ।
অ্যামাজনের নির্বাহী চেয়ারম্যান জেফ বেজোসও এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তার মতে, এআই এখন ‘শিল্পভিত্তিক বুদবুদ’-এর মধ্যে রয়েছে। এটি আর্থিক খাতের বুদবুদের মতো নয়। শিল্পভিত্তিক বুদবুদ সাধারণত ক্ষতিকর নয়; বরং সময়ের সাথে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজ উপকৃত হয়।
কী এই ‘এআই বুদবুদ’?
বাজারে যখন বিনিয়োগকারীরা অতিমাত্রায় আশাবাদী হয়ে কোনো প্রযুক্তি বা কোম্পানির শেয়ার কিনতে থাকেন এবং তার মূল্য বাস্তবসম্মত সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তাকে বুদবুদের পরিস্থিতি বলা হয়। ২০০০ সালে ডট-কম ক্র্যাশের সময় ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্য আকস্মিকভাবে ধসে পড়েছিল। এআই খাতেও তেমন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
এআই-চালিত সাফল্যের ফলে গত সাত মাসে অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বর্তমান অস্বাভাবিক শেয়ারমূল্য বৃদ্ধি প্রকৃতপক্ষে জটিল ফাইন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ফল, যা এআই কেন্দ্রিক একটি আর্থিক বুদবুদের সৃষ্টি করেছে।








