নেইমারকে ছেড়ে দিয়েছে আল হিলাল। তারপর শৈশবের ক্লাব সান্তোসকেই যে ঠিকানা বানাচ্ছেন, সেটাও ছিল একরকম নিশ্চিত। ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট মার্সেলো তেইসেইরা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাজিলিয়ান তারকার ফেরার কথা নিশ্চিত করেছেন। নেইমার শৈশবের ক্লাবে ফিরছেন প্রায় ১২ বছর পর।
সান্তোসের হয়ে ছয়টি শিরোপা জিতেছিলেন নেইমার। এরমধ্যে ছিল ২০১১ সালে কোপা লিবার্তোদোরেস ট্রফিও। তার ফেরা নিয়ে তেইসেইরা বলেছেন, ‘স্বাগতম আমাদের ছেলে নেইমার। নিজেদের লোকদের কাছে তার ফেরার সময় এখনই। নিজেদের বাড়িতে, আমাদের প্রাণের ক্লাবে ফেরার সময় এখনই। সে এই স্টেডিয়ামেরই ছেলে, সাদা এবং কালো জার্সিতে আবারও খুশি হয়ে ফিরবে সে। সান্তোসবাসী তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আল হিলাল থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেইমার বলেছেন, ‘আজ আমি খুব খুশি যে আমি বাড়ি ফিরে যেতে পারছি। আমার দেশে। এই ক্লাবের (আল হিলাল) হয়ে খেলা আমার জন্য আনন্দের ছিল। যদিও খুব অল্প সময়ের জন্য ছিল, পরিস্থিতি প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল না। আমি মাঠে তোমাদের যেমনটা চেয়েছিলাম তেমন সাহায্য করতে পারিনি।’
২০১৭ সালের গ্রীষ্মে পিএসজির কাছে ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে নেইমারকে বিক্রি করেছিল বার্সা। যা ফুটবলবিশ্বে এখনও বড় চুক্তিগুলোর একটি। পরে ফ্রান্স ছেড়ে তিনি যোগ দেন সৌদি ক্লাব আল হিলালে। সেখানে চোটের কারণে লম্বা সময় ছিলেন মাঠের বাইরে। ১৭ মাসে কেবল ৭টি ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি।
পিএসজি ছেড়ে আল হিলালে নাম লেখানোর সময় পুরোপুরি চোটমুক্ত ছিলেন না নেইমার। পরে সুস্থ হয়ে ৫ ম্যাচ খেললেও ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে খেলতে গিয়ে এসিএলের চোটে পড়েন। চোটে ৩৬৯ দিন পর মাঠের বাইরে থাকতে হয় ৩২ বর্ষী তারকাকে।
দীর্ঘ চোট কাটিয়ে গতবছরের ২১ অক্টোবর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে প্রত্যাবর্তন ঘটে নেইমারের। বদলি নেমে ১৩ মিনিট খেলেন। এরপর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একই টুর্নামেন্টে ইস্তেগলালের বিপক্ষে বদলি নেমে ২৯ মিনিট খেলে আবারও চোটে পড়েন। চোটের কারণে এখনো মাঠের বাইরে আছেন।
১৯৯২ সালে জন্ম নেয়া নেইমার সান্তোসে নাম লেখান ২০০৩ সালে। সান্তোসেই বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা ফুটবলারের হাতেখড়ি। ব্রাজিলিয়ান ওয়ান্ডারবয় শুরুতে খেলতেন সান্তোসের ইয়ুথ ক্লাবে। ২০০৯ সালে প্রথমবার খেলেন সিনিয়র দলে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সান্তোসে ধারাবাহিকভাবেই খেলেছেন তিনি।







