ঢাকা ওয়াসার সদ্য অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ রোববার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিআইডি সূত্র জানায়, মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী ১৯৯১ সালে ঢাকা ওয়াসায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ চাকরিকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অবৈধ উৎস থেকে অর্জিত অর্থ তিনি বিদেশে পাচার করেছেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের নাম ছাড়াও স্ত্রী ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অঢেল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ তিনি নিজের এবং স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে কানাডার টরন্টো শহরে একটি বিলাসবহুল বাড়ি ক্রয় করেন। টরন্টোর স্থানীয় ভূমি নিবন্ধন অফিসের সূত্র উল্লেখ করে সিআইডি জানায়, ওই বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকা। ইতোপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তার পরিবারের নামে বিদেশে সম্পদ থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী এই অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, পাচারকৃত অর্থের উৎস এবং বিদেশে থাকা অন্যান্য সম্পদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। অনুসন্ধান শেষে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিন দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব দপ্তরে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম ব্যাপারী পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর এটি গৃহীত হয়।
১৯৯১ সালে ঢাকা ওয়াসায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন আব্দুস সালাম ব্যাপারী। ঢাকা ওয়াসা সূত্র বলছে, চাকরিজীবনে বিভিন্ন পদে তিনি আড়াই কোটি টাকার মতো বেতন–ভাতা পেয়েছেন।








