নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস হিপকিনস তার সাথে দেশটির বিমানবাহিনীর অতিরিক্ত একটি জেট নিয়ে চীন সফরে গিয়েছিলেন। কারণ হলো, তাকে বহন করা বিমানটি যদি কোনো করণে ভেঙে যায় তাহলে যেন তাৎক্ষণিক ব্যাকআপ পাওয়া যায়।
এনডিটিভি জানায়, হিপকিন্স রোববার চীনের রপ্তানি বাজারের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আশায় রয়্যাল নিউজিল্যান্ড এয়ার ফোর্সের বোয়িং ৭৫৭-এ করে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আরও একটি বিমান এসময় সাথে ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ফিলিপাইনের ম্যানিলা পর্যন্ত যায় দ্বিতীয় বিমানটি। প্রধানমন্ত্রীর বিমানে কোনো যান্ত্রিক সমস্যা ধরা পড়লে, ব্যাকআপ হিসেবে সেটিকে রাখা হয়েছিল।
ভ্রমণের গুরুত্ব এবং দূরত্ব অনেক বেশি থাকার কারণে এটি বিবেচনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড এয়ার ফোর্সের বোয়িং ৭৫৭ প্রায় ৩০ বছর পুরানো। সে কথা বিবেচনা করেই ব্যাকআপ বিমান রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
তবে বিরোধী দলগুলো বলেছে, দ্বিতীয় বিমান নেয়ার সিদ্ধান্ত বিব্রতকর এবং এটি দেশের প্রতিরক্ষাবাহিনীর দুর্বল অবস্থার চিত্র তুলে ধরেছে। প্রধান বিরোধী দল ন্যাশনাল পার্টির নেতা ক্রিস্টোফার লুক্সন বলেছেন, এটি খুব একটা অর্থপূর্ণ নয়।
স্বাধীনতাবাদী এসিটি পার্টির নেতা ডেভিড সেমুর দাবি করেছেন, এর ফলে অতিরিক্ত কার্বন নির্গত হয়েছে। কিছু লোক বিদেশ ভ্রমণের সময় তাদের সাথে একটি অতিরিক্ত ফোন চার্জার আনতে পারে যদি তারা একটি হারিয়ে ফেলে বা ভেঙে যায়। কিন্তু ক্রিস হিপকিনস তার সাথে একটি অতিরিক্ত বোয়িং বিমান নিয়ে গেছে। নিউজিল্যান্ডের পুরানো বিমান বহর একটি জাতীয় বিব্রতকর কারণ হয়ে উঠছে।
নিউজিল্যান্ডের পুরানো বিমান বাহিনীর বহরে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে রাজনীতিবিদদের আটকে থাকার রেকর্ড রয়েছে। গত বছর, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা আর্ডার্ন অ্যান্টার্কটিকায় আটকে পড়েছিলেন যখন তার বিমানবাহিনীর ‘সি- ওয়ান থ্রী জিরো’ বিমানটি ভেঙে পড়েছিল। পরে তাকে একটি ইতালীয় বিমানে করে ফেরত নেওয়া হয়। ২০২২ সালের শুরুর দিকে জ্যাসিন্ডা মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের সাথে দেখা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তখনও তার বোয়িং বিমানটি ওয়াশিংটনে ভেঙে পড়ে।








