মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট এক রহস্যের নাম। আচরণ কেমন হবে সেটা সফরকারী দল দূরের কথা, স্বাগতিকরাও অনেক সময় বুঝতে পারে না। যেমন ঘটেছে নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে। পিচ নিয়ে তাই আলোচনা দ্বিতীয় ম্যাচের আগেও। কিউই পেসার নাথান স্মিথ মনে করছেন, দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ম্যাচের মতোই উইকেট হবে। সঙ্গে জানালেন, প্রথম ম্যাচে বোলিংয়ে শরিফুল ইসলামের লেন্থকে অনুসরণ করে সাফল্য পেয়েছেন তারা।
সোমবার তিন ম্যাচের সিরিজে দ্বিতীয়টিতে নামবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। সকাল ১১টায় শুরু হবে খেলা, ধারাভাষ্য শোনা যাবে রেডিও ভূমিতে। রোববার সংবাদ সম্মেলনে উইকেট নিয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরলেন কিউই পেসার নাথান। বললেন, প্রথম ম্যাচের মতো একই ধরনের উইকেট প্রত্যাশা করছেন।
‘মনে হচ্ছে তারা দ্বিতীয় একটি উইকেট প্রস্তুত করে রেখেছে যা গত ম্যাচের মতোই হবে। উইকেটে ঘাসের বেশ ভালো আবরণ আছে। তবে আমার মনে হয় প্রচণ্ড গরমে উইকেট পুড়ছে এবং এর ফলে ভেঙে যাচ্ছে। ফ্লাডলাইট জ্বলে ওঠার সময় রোদের প্রভাবে পায়ের ছাপ ও ফাটলগুলো আরও দৃশ্যমান হচ্ছিল।’
‘দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট দেখে কিছুটা পাকিস্তান সিরিজের উইকেটের মতো মনে হচ্ছে, ফুটেজ দেখে। এতে গতি বেশি থাকতে পারে। বাংলাদেশ মনে হয় প্রথম ম্যাচের উইকেটে বেশি গতি চেয়েছিল। দেখা যাক পরের ম্যাচে কেমন উইকেট থাকে।’
‘বাংলাদেশ আরও ভালো পিচ বানানোর চেষ্টা করছে। তাদের দলে অনেক কোয়ালিটি পেস বোলার রয়েছে। তাদের কাজে লাগাতে চাইবে। অসম বাউন্স আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। নেটে যেভাবে খেলেছি সেভাবেই মূল ম্যাচে খেলেছি। প্রস্তুতি ভালোভাবে নিতে পেরেছি আমরা সবমিলিয়ে।’
বাংলাদেশের উইকেটে বোলারদের মানিয়ে নেয়া বেশ কঠিন। এক্ষেত্রে টস প্রাধান্য দিচ্ছেন স্মিথ। গত ম্যাচে আগে ব্যাট করা ব্যাটারদের তথ্যের ভিত্তিতে বোলাররা সাফল্য পেয়েছেন, জানিয়েছেন স্মিথ। বললেন, প্রথম ইনিংসে কিউই ব্যাটাররা প্রতিনিয়ত বার্তা দিচ্ছিলেন যে, উইকেট নিচু হচ্ছে এবং বাউন্স অসমান।
শরিফুলের বোলিং দেখে তারা শিক্ষা নিয়েছেন এবং দীর্ঘক্ষণ স্টাম্প লাইন বজায় রেখে বল করার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে টিকনারের স্লোয়ারগুলো উইকেটে থেমে আসছিল, যা তাদের সফল হতে সাহায্য করেছে। কন্ডিশন অনুযায়ী তারা নেটেও একই ধরনের উইকেটে অনুশীলন করেছিলেন, জানালেন নাথান।
‘ব্যাটারদের মধ্যে ভালো যোগাযোগ ছিল। যে কারণে আমরা ভালোভাবে বুঝেছি উইকেট কেমন আচরণ করছে। শরিফুলের প্রথম বলটা এত লো হয়ে গিয়েছিল, নিক কেলিকে প্রায় বোল্ড করে দিচ্ছিল। শরিফুল যে লেন্থে বল করেছে, আমরাও সেই লেন্থে হিট করে যেতে চেয়েছি। যতটা লম্বা সময় ধরে করা যায়। স্টাম্পে বল করতে চেয়েছি। বাউন্স অসম ছিল, পরে টিকনার দারুণ কিছু স্লোয়ার করেছে যেগুলো ভালো ছিল। লম্বা সময় ধরে এমন বোলিংয়েই সাফল্য এসেছে।’
তীব্র গরমে আগে বোলিং করাকে বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন তারকা পেসার, ‘এই কন্ডিশনে আগে বোলিং করা নিশ্চিতভাবেই কঠিন। সেক্ষেত্রে সিমারদের স্পেল ছোট হওয়া উচিৎ, সর্বোচ্চ দুই বা তিন ওভার। এরপর বাইরে গিয়ে তরল খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে আবার ফিরে আসতে হবে। এটি একটি দলীয় প্রচেষ্টা হবে, যেখানে মাঠের বাইরের খেলোয়াড় ও স্টাফদেরও সাহায্য প্রয়োজন।’








