নতুন বছরের শুরুতেই দর্শকের জন্য দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি নিয়ে আসছে অরিজিনাল সিরিজ ‘আঁতকা’। ১৪ জানুয়ারি রাত ১২টায় (১৫ জানুয়ারি) সিরিজটি মুক্তি পাবে চরকিতে। দর্শকদের জন্য নতুন বছরের প্রথম কনটেন্ট হিসেবে পরিবারকে কেন্দ্র করে সাজানো গল্পকে বেছে নিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
পারিবারিক প্রেক্ষাপটের আশ্রয়ে নানান টুইস্ট রাখা হয়েছে সিরিজে। রাবা খানের গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপে সিরিজটি নির্মাণ করেছেন আরাফাত মহসীন নিধি। এটি গল্পকার ও নির্মাতা হিসেবে তাদের প্রথম সিরিজ।
‘আঁতকা’ আসলে কী? রাবা ও নিধি বলেন, ‘আঁতকা’ একটা শব্দ যার অর্থ আচমকা। এটা খুবই লোকাল একটা শব্দ, আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি।
নামটা চূড়ান্ত করার গল্প বলতে গিয়ে রাবা বলেন, “সিরিজের নাম কী হবে, সেটা নিয়ে একদিন আমি আর নিধি ফোনে কথা বলছিলাম। ওই আলোচনার মধ্যেই কয়েকবার ‘আঁতকা’ শব্দটা ব্যবহার করে নিধি। তখন আমাদের মনে হয় এটা নাম হতে পারে। আমরাও শব্দটা প্রায়ই ব্যবহার করি। নানা আলোচনা ও যুক্তির পর আমরা নামটা ঠিক করি।”
এই সিরিজের কলাকুশলীদের নিয়ে এক আড্ডায় ‘আঁতকা’ নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা শেষ করে অন্যদের কাছে রাবা জানতে চান, ‘আঁতকা’য় কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? সাবেরী আলম বলেন,“খুব চমৎকার এক্সপেরিয়েন্স।” রোজী সিদ্দিকীর ভাষ্য “ফ্যামিলি ড্রামা।” সুনেরাহ বলেন ‘ফান’ এবং আবুল হায়াত বলেন “ফ্যামিলি ফান।”!
মজার ঘটনা বলতে গিয়ে সাবেরী আলম বলেন, “একটা সিনে তুষার ভাই (তুষার খান) মনে করেছেন আমি তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছি। কিন্তু আমি অভিনয় করছিলাম তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর চরিত্রে। সিনটা ছিল ইমোশনাল, কিন্তু ভুল করার কারণে খুব মজা হয়েছিল।” সাবেরী আলমের সঙ্গে যোগ করেন আবুল হায়াত, বলেন, “নাটকে তো আসেল তুষার স্ত্রী পায় না। এখানে (আঁতকা) স্ত্রী পেয়ে কনফিউজড হয়ে গেছে।”
রোজী সিদ্দিকী বলেন, “অনেকদিন পর আমরা কিছু পুরনো মানুষ একসঙ্গে হতে পেরেছি। এত হাসাহাসি করেছি যে নির্মাতা বলতে বাধ্য হয়েছে যে, আপনারা প্লিজ হাসি থামান, আমাকে সিনটা করতে দেন। ছোটদের সঙ্গেই মজা করেছি। ওরা (ছোটরা) বুঝতে পেরেছে, বড়রা কী পরিমাণ ফানি হতে পারে।”
নবীন–প্রবীণদের কার চ্যালেঞ্জ কেমন ছিল? রাবার এমন প্রশ্নে আবুল হায়াত বলে ওঠেন, “অভিনয় করাটাই চ্যালেঞ্জিং। যেকোনো চরিত্রে অভিনয় করাটাই কঠিন। আর নতুনদের সঙ্গে কাজ করাটা আরও কঠিন কারণ ওরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো অভিনয় করে।”
আরশ খানের উত্তর, “আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল দাদার সঙ্গে (আবুল হায়াত) প্রথম দৃশ্যটা। সবসময় তাকে টিভিতে দেখেছি, আবুল হায়াত আমার কাছে ‘দ্য আবুল হায়াত’। সিনটা করব কীভাবে এটা ভেবে আগের রাতে জ্বর চলে এসেছিল।” এ কথা শুনে আবুল হায়াতের মন্তব্য, “আগে বলবা না, আমার কাছে প্যারাসিটামল তো ছিলই।”
সোহেল মণ্ডলের কাছে সবার সঙ্গে অভিনয় করাটা ছিল আনন্দের। ফারিহা রহমান বলেন,“আমার একটা ইমোশনাল সিন চলছিল। কান্নার সিন মূলত। আমি কাঁদছিলাম ঠিকই কিন্তু সেটা ভয়ে, এত গুণী শিল্পীদের সামনে আমি জাস্ট ভয়ে কেঁদে দিয়েছি। সবাই হয়তো মনে করেছে যে সিনের প্রয়োজনেই কাঁদছি।”
কান্নার কথা শুনে অন্য একটা গল্প মনে পরে আবুল হায়াতের। অভিনেতা বলেন, “অনেকদিন আগের কথা। মঞ্চে এক পরিচালক কান্নার নানান রকম টেকনিক শেখাচ্ছিলেন। একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, স্যার আপনার যখন কান্নার প্রয়োজন হয় তখন আপনি কীভাবে কাঁদেন? আমি বললাম, আমার কিছু করতে হয় না, আমার স্ত্রী–এর কথা মনে করলেই কান্না চলে আসে। আর হাসেন কীভাবে? ওই, স্ত্রী–এর কথা মনে করে।”
‘আঁতকা’–এর শুটিং করতে গিয়ে অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামালের ব্যাপারে অভিনেতা আরশ খানের নতুন একটা উপলব্ধি হয়েছে। সেটা জানিয়ে আরশ খান বলেন, “সুনেরাহ–এর সঙ্গে তো আমার প্রায়ই কাজ হয়। শান্ত, ভালোবাসার মানুষ– এমন চরিত্রেই সাধারণত কাজ হয় আমাদের। কিন্তু এই শুটিংয়ে গিয়ে বুঝলাম সে খুব পোংটা বা এরকম চরিত্রে অভিনয় করতে পারে, সেটা খুব মজা লেগেছে।”
আরশকে নিয়ে সুনেরাহর মন্তব্য এমন, “আরশ সেটে গিয়ে সবকিছু ভুলে শুধু অ্যাকটিংটা করতে পারে, এটা জানতাম না। কারণ সাধারণত সে সব কিছুতে নাক গলায়।”
২০২৩ সালে ‘আঁতকা’–এর গল্পটা মাথায় আসে নিধি এবং রাবার। গল্পটা ভাবতে ভাবতেই তারা সিদ্ধান্ত নেন যে গল্পটা ফ্যামিলি ড্রামা থেকে কিছুটা হরর কমেডিও হবে। ২০২৪–এর শেষে এর সিন–সিনপসিসগুলো তারা লেখেন। বাকি কাজগুলো শেষ হয় চরকির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর, জানান রাবা–নিধি। রাবা বলেন, “আমরা ফ্যামিলি ড্রামা করতে চেয়েছিলাম এবং এটা এখনও সেটাই আছে। তবে এর সঙ্গে টুইস্ট হিসেবে যুক্ত হয়েছে অনেক ডাল–পালা।”
চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, “নতুন বছরে চরকির প্রথম কনটেন্টে সবাই যেন পারিবারিক একটা গল্প পায়, একটু ফান করতে পারে একটু হরর ফিল পায় সেই ভাবনা থেকেই দর্শকদের জন্য ‘আঁতকা’। আশা করছি দর্শকরা গল্পটার সঙ্গে খুব সহজে কানেক্ট করতে পারবেন।”
আরাফাত মহসীন নিধি বলেন, “আমার ইচ্ছা ছিল মাল্টিকাস্টিং নিয়ে কাজ করার। আমি আমার ছোটবেলায় যাদের দেখেছি, তাদের কেন সিনেমা বা ওটিটিতে পাচ্ছি না, সেটা আমরা একটা চিন্তা ছিল। তাই যখন ফ্যামিলি গল্প নিয়ে কাজ শুরু করলাম, আমরা চেয়েছিলাম এরকম একটা কাস্ট নিয়ে কাজ করার। যাদের চেয়েছি, তাদেরকে পেয়েছি বলতে পারেন এবং মজার বিষয় হলো তাদের সঙ্গে আমার আগের কোনো যোগাযোগ ছিল না। আমি লাকি যে সবাই আমার কাজে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন।”
চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘আঁতকা’য় আরো আছেন মুকুল সিরাজ, সুমন আনোয়ার, তন্ময় পারভেজ, দুর্জয়, আলিফ খান, ফারদীন খান, ফাহাদ রিয়াজ খান, ডালিয়া, আবু নায়েম প্রমুখ।








