সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি নিশ্চিত করতে গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) থেকে ২৭ সদস্য রাষ্ট্রে নতুন অভিবাসন ও আশ্রয়নীতি কার্যকর করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর ফলে ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।
‘ইইউ প্যাক্ট অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম’ নামে পরিচিত এই নীতিমালাকে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২৪ সালে অনুমোদিত এই কাঠামোর লক্ষ্য হলো পুরো ইউরোপে অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর এবং অভিন্ন নিয়মের আওতায় আনা।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন বলেছেন, ‘অভিবাসন একটি ইউরোপীয় চ্যালেঞ্জ এবং এর সমাধানও হতে হবে ইউরোপীয় পর্যায়ে। নতুন এই নীতিমালা বহিঃসীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করবে, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংহতি বাড়াবে এবং আশ্রয় ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে।’
ইইউ প্যাক্ট অনুযায়ী, নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় আশ্রয়ের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যক্তির আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা কম, নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আশ্রয় আবেদন গ্রহণের আগে তাদের পরিচয়, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।
ইইউ কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থা সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে এবং নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।
নতুন নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্থায়ী সংহতি ব্যবস্থা। এর আওতায় কোনো দেশ অতিরিক্ত সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীর চাপে পড়লে অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা বা অন্যান্য কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে পাশে দাঁড়াবে।
এছাড়া পুরো ইইউজুড়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অভিন্ন মানদণ্ড চালু করা হয়েছে। কোন সদস্য রাষ্ট্র একটি আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব নেবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়প্রার্থীদের কর্মবাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই সংস্কার প্রণয়ন করা হয়। ওই সংকট ইউরোপের বিদ্যমান আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থার নানা দুর্বলতা সামনে নিয়ে আসে।
তবে নতুন নীতিমালা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের আশঙ্কা, কঠোর সীমান্ত প্রক্রিয়া অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় অভিবাসীর জন্য সুরক্ষা পাওয়ার পথ কঠিন করে তুলতে পারে।
যদিও ইইউ কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন এই কাঠামো সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আশ্রয় চাওয়ার মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে। তাদের মতে, এর ফলে ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর, সমন্বিত এবং টেকসই হবে।







