নেদারল্যান্ডসের সাবেক পেস-অলরাউন্ডার ডানহাতি টিম ডে লেডের কাছে ভারত বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ১৯৯৬ সালে দেশের হয়ে এশিয়ার মাটিতে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিলেন। ২৭ বছর পর ৫৫ বর্ষী সাবেক আবারও ভারতে এসেছেন। খেলতে নয়, দলের গুরুত্বপূর্ণ পেস-অলরাউন্ডার ও সুযোগ্য পুত্র বাস ডে লেডের বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো দেখতে এসেছেন।
ডাচদের হয়ে ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপেও খেলা টিম যে লেডে জানাচ্ছেন, ‘সেসময় একটি ভিন্ন যুগ ছিল- কোন চুক্তি নেই, কোন অর্থ নেই, কিন্তু সুখ এবং আনন্দের ভার ছিল প্রচুর। আমাদের সকলের চাকরি থেকে ছুটি দরকার ছিল, আমাদের জীবনে তখন সময় ছিল।’
২৩ বর্ষী বাস ডে লেডে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের হয়ে মাঠে নামতে পারলে হবেন এমন ষষ্ঠ খেলোয়াড়, যাদের বাবা এবং ছেলে বিশ্বকাপে খেলেছেন। এমন রেকর্ডের অনুভূতিতে ব্যাটিং অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘এটা বিশেষ কিছু, কিন্তু আমার বাবা যেটা করেছেন, সেটার পুনরুত্থান করতে চাই না। কিন্তু বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার কাছে বিশেষ কিছু। এটা বেশ ভালো বিষয় যে, আমার বাবাও কিছু করেছিলেন। তার সময়ের কাহিনী শুনতে পারা বেশ মজার।’
বিশ্বকাপে বাবা ও ছেলে খেলেছেন এমন পাঁচ বাবা-ছেলে হলেন ইংল্যান্ডের ডোনাল্ড জেমস প্রিঙ্গেল ও ছেলে জেমস প্রিঙ্গেল, নিউজিল্যান্ডের বানার্ড ল্যান্স কেয়ার্নস ও ছেলে ক্রিস কেয়ার্নস, ইংল্যান্ডের ক্রিস ব্রড ও ছেলে স্টুয়ার্ট ব্রড, অস্ট্রেলিয়ার জিওফ মার্শ এবং তার দুই ছেলে শন মার্শ ও মিচেল মার্শ এবং নিউজিল্যান্ডের রডনি টেরি ল্যাথাম এবং ছেলে টম ল্যাথাম।
বাবার সময়ের গল্পের মধ্যে একটি গল্প বাস ডে লেডে অনেকবার শুনেছেন এবং সেই গল্পের কথা জিজ্ঞেস করতেই টিমের হাসি চওড়া হয়ে উঠে- ‘বন্ধু, এটা আমার ১৫ মিনিটের একটি ফ্রেম।’ ২০০৩ সালে ভারতের বিপক্ষে টিম ডে লেডের ৪ উইকেট নেয়ার গল্প সেটি। তার মধ্যে শচীন টেন্ডুলকারের উইকেটও ছিল- ‘আমি আরও একজন কিংবদন্তি ব্যাটারের উইকেট নিয়েছিলাম এবং সেটি রাহুল দ্রাবিড়ের।’

‘আম্পায়ার পিটার উইলি স্মৃতি হিসেবে সেই বলটি আমাকে দিয়েছিল। চেয়েছিলাম শচীন আমাকে সেই বলে স্বাক্ষর করে দিক, কিন্তু মিডিয়াতে কথা বলতে বলতে ভারতীয় দল চলে গিয়েছিল। ২০০৪ সালে কনুইয়ের সার্জারি করতে যখন নেদারল্যান্ডসে আসে, এক ফিজিও বন্ধু আমাকে সে তথ্য জানায়। শচীন বেশ আন্তরিক ছিল, সেই খেলার কথা মনে করে বলে স্বাক্ষর করে দেয়।’
ডে লেডে সিনিয়র ছেলের পারফরম্যান্স কাছ থেকে দেখেন কিনা এমন প্রশ্নে জানান, ‘মাঝে মাঝে। দল যখন নিউজিল্যান্ডে যায়, আমি খেয়াল করলাম ডে লেডে ইশ সোধির বল বুঝতে পারছে না। তাকে বলেছিলাম, যখন কোন স্পিনারকে বুঝতে না পারো, লাইনের বাইরে খেলার চেষ্টা করো এবং সুইপ খেলতে থাকো। ব্যাকফুটে খেলার চেয়ে এটাই ভালো বিষয়।’
নেদারল্যান্ডসকে এবারের বিশ্বকাপের লড়াইয়ে উত্তীর্ণ করার অন্যতম নেপথ্য নায়ক বাস ডে লেডে। এক ম্যাচে ৫ উইকেট ও সেঞ্চুরির রেকর্ড রয়েছে তারকা ব্যাটিং-অলরাউন্ডারের।








