বিপ্লব শেষে ক্লাসে ফিরে গেল নেপালের জেন-জি
নেপালের নতুন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি কেন মাত্র ৩ জন উপদেষ্টা নিলেন? শপথ গ্রহণের পরই কীভাবে জানানো হলো মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই নির্বাচন? দেশটিতে অচলাবস্থার অবসান হচ্ছে কীভাবে? কী পরিস্থিতি নেপালের?
চলুন জেনে নেওয়া যাক এসবের বিস্তারিত।
নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এর মাধ্যমে নেপালের অচলাবস্থার অবসান হলো। তবে মাত্র তিনজন ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ৫ মার্চ নেপালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমন ঘোষণায় প্রশংসায় ভাসছেন সুশীলা কার্কি।
সরকার গঠন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরুর পেছনে জেন-জিরও অবদান রয়েছে। কারণ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মন্ত্রিত্ব চায়নি, কোন দল গঠনের ঘোষণাও দেয়নি। তারা সরকারকে দায়িত্ব দিয়ে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে গেছে। যাওয়ার আগে দেশজুড়ে যে ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও, মারপিট হয়েছে তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে, ক্ষমা চেয়েছে। শুধু তাই নয়, আন্দোলনের সময় যেসব রাস্তাঘাট, এলাকা নষ্ট, নোংরা হয়েছে তা নিজেরা মেরামত-পরিষ্কার করেছে।
নেপালের জেন-জি বিপ্লবীরা হঠাৎ কোনো সংস্কার প্রস্তাব করেনি। সংবিধান নিয়েও তাদের কোনো কথা নেই। কারণ তারা জানে, সমস্যার মূলে ছিল কিছু ব্যক্তি, সংবিধান বা অন্য কিছু নয়। তারা চায় দুর্নীতির অবসান। সেনাবাহিনীও তাদের চাওয়া পূর্ণ করতে দফায় দফায় আলোচনা করেছে। তাদের কাছেই শুনতে চেয়েছে তারা কাকে সরকারপ্রধান হিসেবে চায়?
জেন-জির দাবি ছিল অরাজনৈতিক কাউকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব দেওয়া। সেখানেই উঠে এসেছে সুশীলা কার্কির নাম। মাত্র ৩ জন ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভার পথচলা শুরু করেছেন সুশীলা কার্কি।
নেপালে আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেখানে জেন-জির কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ দেখা যায়নি। এজন্যই তারা অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে তার হাতে দায়িত্ব দিয়ে নিজেরা ক্লাসে ফিরে গেছে। তবে তারা কয়েকজন নেতাকে রাজনীতি থেকে অবসরে যেতে বলেছে। এর মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক কিছু ব্যক্তির প্রতি অনাস্থার বার্তা দিলেও রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা বন্দোবস্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি।
নেপালের সেনাবাহিনীকেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেখা গেছে। সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করেনি। বরং আন্দোলনকারীদের চাওয়া পূর্ণ করে অরাজনৈতিক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছে। এখন সুশীলা কার্কির নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে কী ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটাতে পারেন, সেটি দেখার জন্য নেপালীদের মতো পুরো উপমহাদেশই উন্মুখ হয়ে আছে।







