অবশেষে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে এনসিপি’র ছাত্র সংগঠন জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদি হয়ে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া ফাঁড়িতে মামলাটি দায়ের করেন।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ তাদের কাছ থেকে মামলাটি গ্রহণ করেন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, দক্ষিণাঞ্চল মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী ও মাহমুদা মিতু এমপি।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহেদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এখনও তিনি এজাহারের কপি হাতে পাননি বলে জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দিনব্যাপী হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও জেলা শহরে এনসিপির কর্মসূচি ছিল। এতে এনসিপির নেতা নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন। সন্ধ্যায় জেলা শহরের সমাবেশ শেষ করে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথে কোর্ট মসজিদের সামনে পৌছলে তাদের গাড়ি বহরে একদল যুবক হামলা করে। এ সময় গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীরা সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
সারজিস আলম এ সময় অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা করেছে। এতে তিনিসহ তাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় রাতে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম রাত ১১টায় মৌলভীবাজার যান। সেখান থেকে রাতে হবিগঞ্জে বুধবার বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন। একই সাথে জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন বুধবার সকালে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এতে ৫ জনের বেশি মানুষকে এক সাথে জড়ো হওয়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এদিকে মৌলভীবাজারে দলীয় কর্মসূচি শেষে বুধবার বিকেলে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিনাঞ্চল মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
তারা প্রথম দফায় মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সড়কের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় প্রথম পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। পরে দীর্ঘক্ষণ ধস্তাধস্তি ও বাকবিতন্ডার পর তারা সেখান থেকে অতিক্রম করেন। এরপরই তাদেরকে বাহুবল উপজেলার রশিদপুর এলাকায় আবারও আটকে দেয়া হয়। তখন ফের তাদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় একটি ভিডিওতে শুনতে দেখা যায়, উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু এনসিপি নেতারা তাতে কোনভাবেই সায় দিচ্ছেননা। তারা হবিগঞ্জে পৌছানোর দাবিতে অনড় ছিলেন। ৪টি স্থানে তাদরকে ব্যারিকেট দেওয়া হয়।
এক পর্যায়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ বিষয়টি হস্তক্ষেপ করেন। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর তারা কামাইছড়া ফাঁড়িতে মামলা করতে রাজি হন। এরপর তাদের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যায়।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সভা শেষ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়ি বহর নিয়ে সার্কিট হাউজে যাবার পথে কোর্ট মসজিদ এলাকায় পৌঁছলে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, সারজিস আলমের উপর হামলা চালায় একদল যুবক। এ সময় তাদের বহণকারী গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে তারা সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে রাত ৮টার দিকে তাদেরকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায়। রাত ১১টায় সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
এর আগে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এছাড়া ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি







