চট্টগ্রাম থেকে: গতি ও বৈচিত্রময় বোলিংয়ে নজর কেড়েছেন নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেট শিকারে হয়েছেন ম্যাচসেরা। টাইগার পেসারের বোলিং দেখে পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাবেক পেসার ওয়াকার ইউনূসের কথা মনে পড়ছে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইট।
কিউইদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয়টিতে ঘুরে দাঁড়ায় টিম টাইগার্স। ১-১ সমতায় সিরিজ, তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ অঘোষিত ফাইনাল। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গড়াবে লড়াই। ধারাভাষ্য শোনা যাবে রেডিও ভূমিতে। ম্যাচের আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে নাহিদকে নিয়ে অনেক কথা বলেছেন টেইট।
অজি সাবেক জানালেন নাহিদের সঙ্গে নিজের বেশকিছু মিল খুঁজে পেয়েছেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেক মিল আছে, তবে কিছু পার্থক্যও আছে। সে আমার চেয়ে অনেকবেশি ফিট। আমি কিছুটা ভারী ছিলাম এবং জোরে বল করা আমার জন্য কিছুটা কঠিন ছিল। কিন্তু ওর জন্য এটা সহজ মনে হয়। কারণ ও দারুণ অ্যাথলেট, খুবই ছিপছিপে এবং শক্তিশালী। ফাস্ট বোলার হওয়ার জন্য তার শরীরী গঠন আদর্শ। এ কারণে এমন গরম কন্ডিশনেও টানা ম্যাচ খেলার ব্যাপারে তার উপর আমার অগাধ আত্মবিশ্বাস আছে। আমার ক্ষেত্রে চোটের সমস্যা একটু বেশি ছিল।’
নাহিদের ইয়র্কারগুলো উপভোগ করার কথা জানালেন টেইট। সঙ্গে ওয়াকারের কথা স্মরণ করলেন, ‘এই সিরিজে ওর ইয়র্কারগুলো খুব উপভোগ করেছি। এটা ওয়াকার ইউনূসের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়- শুরুতে উইকেট নেয়া এবং শেষে গতিময় ইয়র্কারে লেজ ছেঁটে দেয়া। ব্যক্তিগতভাবে এটা খুব পছন্দ করি।’
টেইট চান নাহিদ গতি ঠিক রেখে বল করে যাক, বৈচিত্র্য দেখানোর প্রয়োজন নেই আপাতত। বললেন, ‘আধুনিক যুগের ক্রিকেটে, বিশেষ করে টি-টুয়েন্টিতে ফাস্ট বোলারদের মধ্যে অনেক ধরনের বৈচিত্র্য দেখানোর প্রবণতা থাকে। নাহিদ খুবই বুদ্ধিমান ছেলে। এখনই ব্যাপারগুলো জটিল করতে চাই না। বর্তমানে যা করছে সেটাই কার্যকর। তার স্লোয়ার বল আছে, কিন্তু প্রয়োজন না হলে সেটা দেয়ার দরকার নেই। যাদের গতি ১৩০-এর আশেপাশে, তাদের মরণঘাতী বাউন্সার নেই বলে স্লোয়ারের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু নাহিদের ক্ষেত্রে উল্টো- তার মূল অস্ত্র হল গতি আর বাউন্স। আস্তে আস্তে আরও শিখবে, তবে এমুহূর্তে চাই শুধু গতি বজায় রেখে সহজভাবে বল করে যাক।’
বৈশাখে কাঠপোড়া গরমেও ১৪১-এর বেশি গতি-গড়ে বল করছেন নাহিদ। টেইটের মতে এটাই নাহিদের ফিটনেস। বললেন, ‘এটা মূলত তার ফিটনেসের উচ্চতাটা প্রমাণ করে। প্রচণ্ড গরমেও ১০ ওভারজুড়ে এই গতি ধরে রাখা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। আমাদের দলের বড় সম্পদ। ধারাবাহিকভাবে খেলার সুযোগ পেতে তার কিছুটা সময় লেগেছে, কিন্তু এখন দেখাচ্ছে কী করতে পারে। পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলার সময়ও তাকে নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল। যখন কোন তরুণ বোলার ১৪৫-১৫০ গতিতে বল করে, তা রোমাঞ্চ তৈরি করবেই। এমুহূর্তে দারুণ করছে এবং তার সাথে কাজ করাটা আনন্দের।’
ওয়ার্কলোড বজায় রাখতে এমন আবহাওয়ায় টানা তিন ম্যাচ খেলা নাহিদের জন্য ঠিক হবে কি? অস্ট্রেলিয়ান কোচ বললেন, ‘যেভাবে বল করছে, মনে হয় সে ঠিক আছে। খেলার জন্য প্রস্তুত। বিশ্রামের জন্য আলাদা সময় থাকে- টুর্নামেন্টের আগে বা পরে। নাহিদ সম্পর্কে যা জানি অত্যন্ত ফিট একজন। খুব দ্রুতগতিতে বল করে ঠিকই, তবে একজন দারুণ অ্যাথলেটও। এমুহূর্তে যেভাবে বল করছে, প্রতিপক্ষ দলগুলো তাকে সামলাতে চাইবে না। নাহিদ যদি দলে না থাকে, প্রতিপক্ষ দলগুলোই বরং বেশি খুশি হবে।’








