শুভ্র চৌধুরী: ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনটি সব সময়ই নৌকা মার্কার ঘাঁটি। বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, রফিকউদ্দিন ভূইঁয়া, প্রিন্সিপাল মতিউর রহমানদের মতো কিংবদন্তী নেতারা ছিলেন ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের প্রাণ। এবার তাদের উত্তরসূরি তরুণ নেতা মোহিত উর রহমান শান্ত পেয়েছেন ঐতিহ্যবাহী নৌকা প্রতীক। তিনি স্মার্ট বাংলাদেশের প্রতিনিধি!
তাই তো তিনি দৃঢ়ভাবে বলতে পারেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ সময়ের দাবী। স্মার্ট মানে কিন্তু কিছু ওয়াইফাই, হটস্পট করে দেয়া না। আমাদের সমস্ত উন্নয়ন কার্যক্রম হতে হবে পরিকল্পিত-সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি। আর সেই লক্ষ্যেই এগুচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচনে আপনারা সদরে নৌকাকে জয়ী করুন। আমি ময়মনসিংহকে স্মার্ট বাংলাদেশের জয়যাত্রায় যুক্ত করব’-এভাবেই জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ হচ্ছেন নৌকার প্রার্থী মোহিত উর রহমান শান্ত।
ময়মনসিংহ সদরে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা মোহিত উর রহমান শান্ত। তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন কিন্তু তৃণমূলের সঙ্গে তার গভীর যোগাযোগ। এবার ১৫ বছর পর সদর আসনের ভোটাররা নৌকায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিগত দিনে এই আসনটি ছিল জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদের।
ময়মনসিংহের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ। সেখানকার চর অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন সুবিধা বঞ্চিত। তাদের উন্নয়নের জন্য কিশোর বয়স থেকেই কাজ করছেন শান্ত। সে কারণে তাদের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়। জনপ্রিয় তরুণ ভোটারদের কাছেও।
রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হলেও, মোহিত উর রহমান শান্ত তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন তৃণমূল পর্যায় থেকে। ১৯৯০ সালে অষ্টম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ওয়ার্ড ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। এরপর শহর শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময়ে তিনি শহর ছাত্রলীগ, আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচিত হন জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে। পরে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আর এভাবেই তিনি ময়মনসিংহের ছাত্র ও তরুনদের মধ্যে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।
রাজপথে সরব থাকায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কোপানলে পড়েন শান্ত। নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হন। ২০০২ সালে ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে বোমা হামলার পরে, বাবা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায় জোট সরকার। জেল থেকে বেরিয়ে এসে পুনরায় সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হবার কারনে তাকে আবারও গ্রেফতার করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।
তারপর ব্রহ্মপুত্রে বয়ে গেছে কত পানি! জনতার কাতারে থেকেই ‘জনতার শান্ত ভাই’ হয়ে উঠেছেন মোহিত উর রহমান।। যার স্বীকৃতি স্বরুপ ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম সাধারন সম্পাদক হিসেবে তাকে মনোনীত করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। আর এবারে তার হাতেই তুলে দিয়েছেন নৌকা।
তিনি বলেন, আমাদের এই সদর আসনটি ময়মনসিংহ বিভাগেরও কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১৪ বছরে জেলায় কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ সব ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন দৃশ্যমান।
বিভাগীয় শহরের উন্নয়নে সিটি করপোরেশন প্রশাসনকেই মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হয় এটাই নিয়ম। দুনিয়ার সব শহরেই একই নিয়ম। কিন্তু এই মহানগরের দায়িত্ব যাদের উপর দেয়া হয়েছিল তাদের ব্যর্থতার কারনে আমরা ময়মনসিংহ সদরের নাগরিকেরা কিছু নাগরিক সুবিধা থেকে এখনও বঞ্চিত। এর কারণ হয়ত এই যে, তারা এই সদরের সন্তান নন। এই নগর তাদের সবকিছু দিলেও এখানকার মানুষ, মাটি তাদের আপন হয়ে উঠেনি কখনও। আর সে কারণেই দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে শেখ হাসিনার উন্নয়নকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার।
আমার স্বপ্ন এই ঐতিহ্যবাহী জনপদের হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনা। আমি জানি এই কাজটি করা খুব একটা সহজ হবে না। আর সে কারণেই আমি মানুষের কাছে যাচ্ছি, তাদের বুঝাচ্ছি। তাদের সমর্থন পেলে আমি আমি আমার সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করব ময়মনসিংহকে স্মার্ট শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে। এই ব্যাপারে আমার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে।
তিনি অঙ্গীকার করেন, ময়মনসিংহবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল থেকে ১০০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য কাজ করব। পর্যটন বান্ধব শিল্প গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেব, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অবকাঠামো, প্রাশাসনিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করব, কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্প-কারখানা এবং সরকারি স্থাপনা স্থাপনেরর জন্য লবিং করব এই জনপদের মানুষের পক্ষে।
সদর আসনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন ও মুক্তিযুদ্ধের নানা নিদর্শন এবং ঐতিহ্যগুলোকে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেব। মোহিত উর রহমান শান্ত আরও বলেন, ময়মনসিংহ সদরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে আমার জন্য মনোনয়ন পাওয়াটা সম্ভব ছিল না। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার বাবার সারাজীবনের লড়াই-সংগ্রাম এবং আদর্শচ্যুত না হওয়ার পুরস্কার হিসেবে আমাকে এই আসনটি উপহার হিসেবে দিয়েছেন। আমি সেটির প্রতিদান দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








