আমরা একা সরকার গঠনের অবস্থানে আছি এবং আমরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশে আমার প্রত্যাবর্তনের সময় খুব কাছে।
যুক্তরাজ্য থেকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনকে উৎখাতকারী ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিপ্লব সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হবে না, যতক্ষণ না একটি অবাধ এবং বিশ্বাসযোগ্য ভোট অনুষ্ঠিত না হয়।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব যিনিই দেবেন তাকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির মুখোমুখি হতে হবে। যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পোশাক খাত মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রতিবেশী ভারতের সাথে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক থাকবে, যেখানে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।
২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ঘটে এবং তাকে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। এদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন নেতা মুহাম্মদ ইউনূস শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করেন।
আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী আখ্যায়িত করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি অন্যান্য দলের সাথে সরকার গঠন করতে প্রস্তুত। যার মধ্যে গত বছরের বিদ্রোহের প্রথম সারিতে থাকা ছাত্রদের নেতৃত্বে একটি নতুন দলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের রাজনীতিতে স্বাগত জানাবো। তারা তরুণ, তাদেরও ভবিষ্যৎ আছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, তারা আমাজন, ইবে, আলিবাবার মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের জন্য বাংলাদেশকে ‘সরবরাহ কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তুলবেন। তিনি বলেন, গার্মেন্টস নির্ভরতা কমিয়ে অনলাইন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস ও ই-কমার্সে প্রবেশই হবে ভবিষ্যতের কৌশল।
ভারতের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “আমরা ‘বাংলাদেশ-ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করব। শেখ হাসিনার আমলে এই সম্পর্ক ছিল একতরফা। যা আর চলবে না।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ও তারেক রহমান—দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব ঐতিহাসিক। শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। যিনি ১৯৭৫ সালে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন। অন্যদিকে, তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। ১৯৮১ সালে তাকেও হত্যা করা হয়।
তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দুর্নীতির মামলার কারণে ফিরতে পারেননি। তারেক দাবি করেন, এসব মামলা ছিল ‘প্রতিশোধমূলক’।
তারেক রহমান বলেন, যদি কেউ অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তাদের নির্বাচন করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও বিচারের প্রসঙ্গে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, বিএনপি এখন ‘প্রতিশোধহীন রাজনীতি’র পক্ষে। দলের ভেতরেও শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৭ হাজার নেতাকর্মীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বা বহিষ্কার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিএনপি’র সর্বশেষ শাসনামলে (২০০১-২০০৬) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচকে বাংলাদেশ পাঁচ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়। তবে তারেক রহমান বলেন, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে আমরা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। দেশকে আমরা এগিয়ে নিতে প্রস্তুত।








