চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Channeliadds-30.01.24Nagod

পরকীয়া প্রেম ফাঁস করায় হত্যা

পরকীয়া প্রেমের বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে ফাঁস করে দেওয়ায় প্রেমিকা আঁখি আক্তারের পরিকল্পনায় প্রেমিক রুমান শিকদারকে হত্যা করা হয়। পরে ঘাতকরা সিংহ নদীর পাড়ে রুমানের মরদেহ মাটিচাপা দেয়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাঘাসুর পশ্চিমপাড়া এলাকার সিংহ নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই যুবকের নাম রুমান শিকদার। তিনি একই এলাকার আবু শিকদারের ছেলে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- আঁখি আক্তার (২৪) ও আলাল মোল্লা (৩৫)। এ ঘটনায় আঁখির স্বামী ওমর ফারুক আগেই থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। আসামিরা রুমান শিকদার হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার ইউনিটের ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানান, ঘাতক আঁখি আক্তার ও নিহত রোমান শিকদার প্রতিবেশী। আঁখির স্বামী ওমর ফারুক প্রবাসী। এই সুযোগে প্রতিবেশী রুমানের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন আঁখি। বিদেশ থাকাবস্থায় স্ত্রীর প্রেমের বিষয়টি জানতে পেরে দেশে চলে আসেন ওমর ফারুক। নানান দ্বন্দ্ব সমঝোতার পর পুনরায় ওমর ফারুক ও আঁখি দম্পত্তি সংসার শুরু করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আঁখি আবারও রুমানের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পরেন। পরে আঁখি রুমানের সাথে পালিয়ে বসবাস শুরু করেন।

Reneta April 2023

এক পর্যায়ে তাদের খোঁজ পায় ওমর ফারুক। আত্মীয় স্বজন ও গণমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আঁখিকে ফিরিয়ে নিতে চায় ওমর ফারুক। কিন্তু ওই এলাকার স্থানীয়রা রুমানকে তার প্রেমিকা আঁখিকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে রুমান অস্বীকার করে।  পরে স্বামী ফারুকের কাছে ক্ষমা চেয়ে সংসারে ফিরে যান আঁখি। তবে ‘অল্প সময়ে’ তাদের বাসা ভাড়া করে থাকা ও পরকীয়ার বিষয়টি রুমানকে গোপন রাখতে অনুরোধ করেন ফারুক ও আঁখি দম্পত্তি।

রুমান অনুরোধ উপেক্ষা করে বিষয়টি এলাকায় বিভিন্নজনের কাছে বলাবলি করছিল। আর এতেই আঁখি ও ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে  চলতি বছরের ২২ মার্চ  রুমানকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। নিহতের লাশ বস্তাবন্দি করে গুমের উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী আলাল মোল্লার সহযোগিতায় বাড়ির পাশের সিংহ নদীর পাড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

যেভাবে মরদেহ উদ্ধার ও পরিচয় মিলল
রুমানকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার এক মাস পর চলতি বছরের ২১ মে সিংহ নদীর খনন কাজ করার সময়ে ভেকুতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির কঙ্কাল উঠে আসে। বিষয়টি স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ জানালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ কঙ্কালের সঙ্গে একটি অস্পষ্ট নেভি ব্লু রঙের শার্টের অংশ বিশেষ পায়। কঙ্কাল উদ্ধারের খবর পেয়ে রুমনের স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা গিয়ে প্রাথমিকভাবে এটি রুমানের মরদেহ দাবি করেন।

পরে কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইদুল ইসলাম কঙ্কালের সুরতহাল প্রস্তুত করেন এবং ডিএনএ প্রোফাইলের জন্য কঙ্কালটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। পাশাপাশি এসআই মাইদুল বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ৫ মাস থানা পুলিশ তদন্ত শেষে দায়িত্ব পায় পিবিআই।

গত আগস্টের ২২ তারিখ মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার একটি দল। এর আগে কঙ্কাল উদ্ধারের পর নিহতের স্ত্রী সেলিনা আক্তার ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। নিহতের মেয়ে নুসরাত (১২) ও ছেলে সাইফের (৬) ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। ডিএনএ পরীক্ষায় রুমানের পরিচয় নিশ্চিত হয় তারা।