যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। শুক্রবার (১ মে) বিকালে ক্যাম্পাসের ক্রিসেন্ট হিলে, মার্শাল স্টুডেন্ট সেন্টারের উত্তর দিকে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সারি দেখা যায় প্রত্যেকে নীরবে অপেক্ষা করছেন ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।
সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির ওয়েব সাইটে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সাদা কার্নেশনসহ বিভিন্ন ফুল রেখে তারা শ্রদ্ধা জানান নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের ছবির সামনে। ছবিতে বৃষ্টিকে দেখা যায় নীল শাড়িতে এবং লিমনকে রঙিন কোরাল-গোলাপি পাঞ্জাবি ও সবুজ ওড়নায়। গত মাসে মর্মান্তিকভাবে নিহত এই দুই শিক্ষার্থীকে স্মরণ করতে শত শত মানুষ শোকসভায় অংশ নেন।
২৭ বছর বয়সী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৫ সালের অটম সেমিস্টারে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি প্রকৌশল ও টেকসই উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর গবেষণায় যুক্ত হন।
অন্যদিকে, সমবয়সী জামিল লিমন ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছিলেন। তিনিও ২০২৪ সালের অটম সেমিস্টারে বাংলাদেশ থেকে এসে পড়াশোনা শুরু করেন।
শোকসভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, তারা শুধু শ্রদ্ধা জানাতেই নয়, বরং বৃষ্টি ও লিমনের পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের পাশে থাকার বার্তা দিতেই এখানে এসেছেন।

শোকসভা শুরুতে প্রার্থনা পরিচালনা করেন ইমাম হাসান সুলতান। তিনি বলেন, আমরা একে অপরের জন্য একটি পরিবার হয়ে উঠি। শিক্ষার্থী সংসদের সহ-সভাপতি কাইও এসমেরাল্ডিও একই সুরে বলেন, আজ পুরো কমিউনিটি আপনাদের পাশে রয়েছে।
বৃষ্টি ও লিমনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওমর হোসেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমাদের স্বপ্ন ছিল আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাবো। তিনি লিমনের সঙ্গে ফুটবল জয়ের স্মৃতি এবং বৃষ্টির আন্তরিক প্রশংসার কথাও তুলে ধরেন। ইউএসএফের জিওসায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মার্ক রেইন্স লিমনকে অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও ভদ্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সে পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গা বানাতে চেয়েছিল।

অন্যদিকে, কেমিক্যাল, বায়োলজিক্যাল ও ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ভিনয় গুপ্ত বৃষ্টির শান্ত হাসি, গানপ্রেম এবং ফ্লোরিডার রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করার অভ্যাসের কথা স্মরণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মোয়েজ লিমায়েম বলেন, আমাদের প্রাণবন্ত দুই শিক্ষার্থীকে আমরা খুব তাড়াতাড়ি হারিয়েছি। এই শোক আমাদের পুরো কমিউনিটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বৃষ্টি ও লিমনের পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সন্তানেরা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তারা এই জায়গারই অংশ ছিল, তারা এখানে সবার ভালোবাসা পেয়েছে এবং তাদের কখনো ভুলে যাওয়া হবে না।

শোকসভাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট মেমোরিয়াল ওয়ালের কাছেই অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় নিহত শিক্ষার্থীদের নাম খোদাই করা রয়েছে। আগামী মাসগুলোতে সেখানে বৃষ্টি ও লিমনের নামও যুক্ত করা হবে।
ট্যাম্পা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী গভর্নর এমা গুডউইন বলেন, আজ ক্যাম্পাসটা অন্যরকম লাগছে। এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করছি। তারা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাদের কখনো ভোলা হবে না।









