শুক্রবার দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশি সিনেমার সোনালী যুগের নায়িকা অঞ্জনা। তার মৃত্যুতে শুধু চলচ্চিত্র জগতই নয়, পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া। গুণী এই মানুষটির স্মরণে চ্যানেল আইতে রাখা হয়েছে শোক বই।
নায়িকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই চ্যানেল আই কার্যালয়ে রাখা হয়েছে ছবিসহ তার নামে একটি শোক বই।
যেখানে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত মুখ থেকে সাধারণ ভক্ত অনুরাগীরাও। শনিবার সকাল থেকেই শোক বইয়ে বহু গুণীজনকে দেখা গেছে অঞ্জনাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে।
এরইমধ্যে শনিবার পৌনে ১টার দিকে শেষবারের মতো অঞ্জনাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল এফডিসিতে। সেখানে শেষবার এই নায়িকাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন চলচ্চিত্রের গুণী মানুষেরা। পরে সেখানেই হবে তার প্রথম নামাজে জানাজা।
এফডিসি থেকে অঞ্জনার মরদেহ নিয়ে আসা হবে চ্যানেল আইয়ের কার্যালয়ে। এখানে হবে নায়িকার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। পরে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন অঞ্জনা।
৩ শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী অঞ্জনা। ১৯৮১ সালে ‘গাংচিল’ এবং ১৯৮৬ সালে ‘পরিণীতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য দুইবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি৷ এছাড়া তিনি মোহনা (১৯৮৩), পরিণীতা (১৯৮৬) এবং রাম রহিম জন (১৯৮৯) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে তিনবার বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।
চলচ্চিত্র জগতে আসার আগে তিনি একজন নামী নৃত্যশিল্পী ছিলেন। অঞ্জনার অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ চলচ্চিত্র দিয়ে। তবে তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত দস্যু বনহুর (১৯৭৬)। রহস্য ভিত্তিক এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন সোহেল রানা।
১৯৭৮ সালে তিনি আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘অশিক্ষিত’ চলচ্চিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাকের বিপরীতে লাইলি চরিত্রে অভিনয় করেন। রাজ্জাকের বিপরীতে তিনি ৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আলমগীর, জসিম, বুলবুল আহমেদ, জাফর ইকবাল, ওয়াসিম, উজ্জ্বল, ফারুক, ইলিয়াস জাভেদ , মিঠুন চক্রবর্তী, (ভারত) ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল চৌধুরী, রুবেল, সুব্রত বড়ুয়া, মান্নার মতো তারকা নায়কদের সাথে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হন।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর পিজি হাসপাতালে বিগত তিন দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন অঞ্জনা। তার আগে ২৪ ডিসেম্বর নায়িকা অঞ্জনাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তার জ্বর ছিল।
পরে চিকিৎসকরা জানান, তার ব্লাড ইনফেকশন সারা শরীরে ছড়িয়ে গেছে। এর ফলে হার্ট ও কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয়। ফুসফুসে পানি জমেছে। এর মধ্যে স্ট্রোকও হয় একবার। শুক্রবার দিনগত রাত ১টা ১০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।








