সোমবার (১৫ মে) সকাল ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তী অভিনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবীদ আকবর হোসেন পাঠান ফারুক।
তার মৃত্যুতে শুধু সিনেমা ও রাজনীতি অঙ্গন নয়, পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া। গুণী এই মানুষটির স্মরণে চ্যানেল আইতে রাখা হয়েছে শোক বই।
চ্যানেল আই পরিবারের সাথে অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিলো কিংবদন্তী অভিনেতার। সিনেমার এই গুণীজনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই চ্যানেল আই কার্যালয়ে রাখা হয়েছে বিশালাকার ছবিসহ তার নামে একটি শোক বই।
যে বইতে ইতোমধ্যে এই গুণী মানুষের স্মরণে নিজের অনুভূতির কথা লিখে প্রকাশ করছেন প্রবীণ ও নবীন অভিনেতা, শিল্পী, সাংবাদিক সহ শোবিজ অঙ্গনের মানুষ। এদিন বিকেলে চ্যানেল আই ভবনে আসেন আরেক কিংবদন্তী অভিনেতা আলমগীর ও নায়িকা রোজিনা। সেই শোক বইয়ে সহ-অভিনেতাকে উদ্দেশ্য করে নিজেদের অনুভূতির কথা লিখেন তারা।
সিঙ্গাপুর থেকে মঙ্গলবার (১৬ মে) সকালে ঢাকায় পৌঁছাবে আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মরদেহ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, এফডিসি সহ একাধিক শোক আনুষ্ঠানিকতা শেষে এদিন সন্ধ্যায় গাজীপুরের কালীগঞ্জে গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।
এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ সিনেমার মাধ্যমে ফারুকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয় করেছেন ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘সুজন সখী’, ‘লাঠিয়াল’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘মাটির মায়া’, ‘নয়নমনি’, ‘সারেং বৌ’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘নাগরদোলা’, ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘কথা দিলাম’, ‘মাটির পুতুল’, ‘সাহেব’, ‘ছোট মা’, ‘এতিম’, ‘ঘরজামাই’, ‘মিয়া ভাই’র মতো অসংখ্য সিনেমায়।
ফারুক তার অভিনয়ের জন্য ১৯ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু তার হাতে পুরস্কার উঠেছিল কেবল একবার। অবশ্য ২০১৬ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
২০২১ সালের ৪ মার্চ নিয়মিত চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুর যান নায়ক ও ঢাকা-১৭ আসনের এই সংসদ সদস্য। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সেখানে অবস্থান করেই চিকিৎসা নিতে থাকেন।








