‘সৌদি থাইকা আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম’

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের দিনও বাবার সঙ্গে কথা হয়েছিল সুইটি আক্তারের। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফোনে কথা বলার সময় কারাগারে থাকার কথা জানালেও আসন্ন মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। পরদিন মেয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পান মা-বাবা। এখন মেয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানাচ্ছেন তারা।
সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের ফজল মিয়া ও জহুরা বেগমের পাঁচ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হয় তার। প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে দ্বিতীয় বিয়ে করলেও স্বামী সৌদি আরবে যাওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
মেয়ের ভবিষ্যৎ ও পরিবারের অভাব দূর করতে ২০২৩ সালের মার্চে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান সুইটি। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। দেশটিতে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর গ্রেপ্তার হন সুইটি। পরিবারের কাছে তিনি জানিয়েছিলেন, তার সঙ্গে কাজ করা কয়েকজন নারী অবৈধভাবে গাড়ি কেনায় তাদের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুইটির বাবা ফজল মিয়া জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় মেয়ের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা হতো। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর আবার ফোন করেছিলেন সুইটি। সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কথা হয় তাদের। তবে নিজের বিচার বা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে কিছু জানাননি মেয়ে।
গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের একজন সুইটি আক্তার, অন্যজন নজরুল ইসলাম।
সুইটির স্বজনদের দাবি, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুইটির নয় বছর বয়সী মেয়ে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। মায়ের মৃত্যুর পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার। স্বজনদের এখন একটাই দাবি, সুইটির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুইটির মা জহুরা বেগম বলেন, ‘সৌদি থাইকা আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’






