টিকটকে আসক্ত গোপালগঞ্জের গোবরা গ্রামের নিলারমাঠ এলাকার এক মা পরকীয়ায় জড়িয়ে সাড়ে ৩ বছরের শিশু কন্যাকে হত্যা করেছে।
শিশুটিকে হত্যার পর তার মরদেহ বাড়ীর একটি ট্রাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখে।
পুলিশের কাছে মা সেতু বেগমের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ১৭দিন পর শনিবার রাতে ট্রাংকের ভেতর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো, সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু।
তিনি আরও জানান, সাড়ে ৩ থেকে চার বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের নিলারমাঠ এলাকার রুবেল শেখের সঙ্গে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গজালিয়া গ্রামের হাসান মোল্লার মেয়ে সেতু বেগমের (২৫) বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান। তার নাম রাখা ফারিয়া। একমাত্র সন্তান ফারিয়াকে রেখে জীবিকার তাগিদে বাবা রুবেল শেখ সৌদি আরবে পাড়ি জমায়।
স্বামী রুবেল শেখ প্রবাসে থাকার সুযোগে ৬/৭ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার মাঝকান্দি এলাকার জাফর মুন্সির ছেলে মিরাজ মুন্সি (২৪) নামের এক যুবকের সাথে সেতু বেগমের পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন সেতু বেগম।
এরপর অবৈধ এই সম্পর্কের একমাত্র ‘বাধা’ সরাতে গত ২২ জানুয়ারি রাতে পরকীয়া প্রেমিক মিরাজ মুন্সির সহায়তায় সেতু বেগম প্রবাসী স্বামীর বাড়িতে বসেই নিজের শরীরের ওড়না প্যাঁচিয়ে শিশু কন্যা ফারিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহটি একটি ট্রাংকের ভেতরে লুকিয়ে রেখে প্রেমিক মিরাজের সঙ্গে পালিয়ে যান।
শনিবার সন্ধ্যায় সেতু বেগমের মা ও মামা ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে সেতু বেগমকে ফরিদপুর থেকে এনে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ প্রবাসি স্বামীর বাড়ীতে একটি ট্রাংকের ভিতর লুকিয়ে রাখা শিশু কন্যা ফারিয়ার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করে।
শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের কাছে আটক অভিযুক্ত মা সেতু বেগমকে রোববার আদালতে পাঠিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি নেওয়া পর তাকে জেল হাজতে পাঠানো হবে।
আর এ ঘটনার সাথে জড়িত আরেক আসামী পরকীয়া প্রেমিক মিরাজ মুন্সিকে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








