চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এ সপ্তাহেই অবসর নিচ্ছেন মরগান

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতি টানছেন

বাজে ফর্ম ও চোটের কারণে চলতি সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে চলেছেন ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক ইয়ন মরগান।

সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ওয়ানডের সিরিজে দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন মরগান। কুঁচকির চোটের কারণে তৃতীয় ওয়ানডেতে খেলতে পারেননি।

Reneta June

৩৫ বর্ষী মরগান চলতি বছর ফর্ম এবং ফিটনেস সমস্যার সঙ্গে লড়ে চলেছেন। সাদা বলের দুটি ফরম্যাটে গত ২৮ ইনিংসে করেছেন মাত্র দুটি হাফ-সেঞ্চুরি। ঘরোয়া ক্রিকেটে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি কোনটাই নেই।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার মরগান একটি কর্পোরেট ম্যাচে খেলেছেন। মঙ্গলবার হ্যাকনির একটি স্কুলে ক্রিকেট দাতব্য চ্যান্স টু শাইন-র জন্য ম্যাচ খেলা থেকে সরে এসেছেন।

মরগান অবসর নিলে জস বাটলার অথবা মঈন আলী সাদা বলের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব পেতে পারেন। ২০১৫ সালে সহ-অধিনায়কের পদ পাওয়া বাটলার এপর্যন্ত ১৩ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মরগানের সিদ্ধান্তকে ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটের কোচ ম্যাথিউ মট এবং ডিরেক্টর রব কি সমর্থন করেছেন। অথচ কিছুদিন আগেও ওয়ানডের পর আসছে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেয়ার আশা ঝরেছিল তার কণ্ঠে। সেজন্য শারীরিক চাপ সামলাতেও প্রস্তুত বলেছিলেন।

বলেছিলেন, ‘আমাকে প্রথমে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে যেতে হবে। আমি কি এখনো দলে, মাঠে এবং মাঠের বাইরে অবদান রাখছি? অধিনায়কত্ব শুরুর পর থেকে সবার সঙ্গে যতটা সৎ ছিলাম, তেমনই থাকব। এখনো মনে করি, অবদান রাখছি। মনে হচ্ছে বিশ্বকাপ জয়ে অবদান রাখতে পারি। এটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

নেদারল্যান্ডস সফরের আগে মরগান বলেছিলেন, ‘যদি এমনটা অনুভব করি যে দলে যথেষ্ট অবদান রাখছি না, তাহলে ইতি টানবো।’

ইংলিশ ক্রিকেট ইতিহাসে মরগানের নাম স্বর্ণাক্ষরে স্থায়ী হয়ে গেছে। একসময় আয়ারল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললেও ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে চাপেন তিনি। সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে বাঁহাতি ব্যাটার হিসেবে মিডল অর্ডারে জায়গা করে নেন।

অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে অ্যালিস্টার কুকের কাছ থেকে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব বুঝে নেন। গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের কাছে হেরে কোয়ার্টারের আগেই আসর থেকে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই অভিযান ব্যর্থ হলেও অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। ২০১৯ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে তার হাতে ওঠে শিরোপা জয়ের ট্রফি।

মরগান ইংল্যান্ডের হয়ে ২৪৮টি ওয়ানডেতে ৭,৭০১ রান এবং ১৪টি সেঞ্চুরি করেছেন। ১১৫ টি-টুয়েন্টিতে করেছেন ২,৪৫৮ রান। ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ১৬টি টেস্ট খেলেন ও দুটি সেঞ্চুরি করেন।