দুদকের তালিকাভুক্ত সন্দেহভাজন শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের একজন মোহাম্মদ আদনান ইমাম। তার ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদকে চলছে প্রাথমিক তদন্ত। সঠিক তদন্ত হলে বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল বলে মনে করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
বিতর্কিত ব্যাংক এনআরবিসি’র এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আদনান ইমাম ব্রিটিশ-বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক। এই সুবিধা নিয়ে তিনি তার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে দেশের একাধিক ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। শেয়ারবাজার কারসাজিরও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
শেয়ারবাজার লুট করে ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন ব্যবসায়। সেখানে নামে বেনামে বিভিন্ন কোম্পানি খুলে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে গড়ে তুলেছেন বিশাল সাম্রাজ্য। সরকারি তথ্য প্রমাণে উঠে এসেছে এরকম অনেক তথ্য। শুধু আবাসন খাতেই তার ১৩৩৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রমাণ রয়েছে সরকারের কাছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল ও আদনান ইমামের অর্থ পাচারের অনুসন্ধান শুরু করলেও রহস্যজনক কারণে তা ধামাচাপা পড়ে যায়। চ্যানেল আই এর নিজস্ব অনুসন্ধানে আদনান সিন্ডিকেটের অর্থ পাচার ও আত্মসাৎ সংক্রান্ত নানা দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অপকর্মে আদনানের অন্যতম সঙ্গী সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি।
যুক্তরাজ্যে আবাসন খাতে আদনানের স্ত্রী নাদিয়া মমিন ইমাম ও রনির স্ত্রী ইমরানা জামান চৌধুরীর যৌথ বিনিয়োগও রয়েছে। এমনকি যুক্তরাজ্যের আবাসন খাতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাভেদের বিপুল অর্থ বিনিয়োগের ‘নাটের গুরু’ হলো আদনান ইমাম। যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামানের ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে বলে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের বিভিন্ন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ৩ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা।

যুক্তরাজ্যের কোম্পানি হাউজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে আবাসন ব্যবসা পরিচালনার জন্য গিলবার্ট স্ট্রিট এস্টেট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি খোলা হয়। ২২ গিলবার্ট স্ট্রিট, লন্ডন, ইংল্যান্ডের ডব্লিউ১কে ৫এইচডি ঠিকানায় খোলা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিটির পরিচালক করা হয়েছে আদনানের স্ত্রী নাদিয়া মমিন ইমাম ও আনিসুজ্জামান চৌধুরী ওরফে রনির স্ত্রী ইমরানা জামান চৌধুরীকে। দুজনেরই জাতীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে ব্রিটিশ।
যুক্তরাজ্যে রনি ও তার স্ত্রীর যৌথ নামে আরও একাধিক কোম্পানি খোলার তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রনি ৪২ লিমিটেড, এএ মান্দারিন লিমিটেড, আইআর প্রপার্টিজ লিমিটেড, বিটকম রিয়েল এস্টেট লিমিটেড অন্যতম। দেশ থেকে পাচার করে নেওয়া লাখ লাখ পাউন্ড এসব কোম্পনিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। কোম্পানি রেজিস্ট্রারের নথিতে দেখা গেছে, বিটকম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের নামে ১৬ লাখ ৬ হাজার ৪৫০ পাউন্ড (প্রতি পাউন্ড ১৪৭ টাকা ৫৭ পয়সা হিসাবে ২৫ কোটি টাকার বেশি) দিয়ে একটি বাড়ি কেনা হয়েছে। আর আদনান ইমাম ও রনির স্ত্রীর নামে গড়া কোম্পানি গিলবার্ট স্ট্রিট এস্টেট লিমিটেডের নামে ২০২২ সালের ১৫ জুলাই একটি বাড়ি কেনা হয়েছে ৯৫ লাখ পাউন্ড দিয়ে (১৪০ কোটি টাকার বেশি)।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে ৪৫ ইস্ট ২২এনডি স্ট্রিটে ২৪ বি নম্বরে একটি দামি প্রোপার্টি কিনেছেন রনি। দলিলে প্রোপার্টি টাইপে লেখা আছে-সিঙ্গেল রেসিডেন্সিয়াল কনডো ইউনিট। এটার দাম ধরা হয়েছে ২৪ লাখ ৮ হাজার ৫৭৫ মার্কিন ডলার। ট্রান্সফার ট্যাক্স দিতে হয়েছে ৩৪ হাজার ৩২২ মার্কিন ডলার। রনি ও তার স্ত্রী ইমরানা দ্বীপ রাষ্ট্র অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারমুডায় বিনিয়োগ কোটায়ও পাসপোর্ট নিয়েছেন। সে দেশে বিপুল অর্থ পাচার করে বিনিয়োগ দেখিয়ে পাওয়া রনির পাসপোর্ট নাম্বার এবি ০৮৬৮৭১। ২০১৮ সালের ৮মার্চ ইস্যুকৃত এই পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ ডিসেম্বর ২০৩২ সালে উত্তীর্ণ হবে। একই মেয়াদকালে পাওয়া রনির স্ত্রীর পাসপোর্ট নম্বর এবি ০৮৬৮৭২।
যুক্তরাজ্যের কোম্পানি হাউজ থেকে সংগ্রহ করা নথিপত্রে দেখা গেছে, ২২ গিলবার্ট স্ট্রিট লন্ডন ডব্লিউ১কে ৫এইচডি দ্বিতীয় তলার যে ঠিকানায় আদনান ও রনির স্ত্রীর নামে কোম্পানি খোলা হয়েছে তা মূলত আদনানের আইপিই প্রোপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের অফিস। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির অফিসের ঠিকানা ছিল ৭৩ নিউ বন্ড স্ট্রিট লন্ডন, ডব্লিউ১৫ ১আরএস। কোম্পানি হাউজে দাখিল করা ২০২৩ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাবে এটাকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হয়েছে। স্থায়ী সম্পদ মাত্র ২৯ হাজার ৫৭ পাউন্ড, আর দেনাসহ বর্তমান সম্পদ দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৬৩ লাখ ৩৫৩ পাউন্ড (প্রায় ৪ কোটি টাকা)।
সরেজমিন দেখা গেছে, সেন্ট্রাল লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন ও বাড়ি তৈরি করে বিক্রি করে আদনানের কোম্পানি। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদক। তারা প্রায় অভিন্ন তথ্য দিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আদনানের আইপিই হোল্ডিং কোম্পানি অন্তত ৮-৯শ অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি ও বেচাকেনা করেছে। বয়সে অনেকটা তরুণ আদনান কীভাবে যুক্তরাজ্যের আবাসন খাতে এত অর্থ বিনিয়োগ করেছেন তার হিসেব মেলাতে পারেননি তারা।
তবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাভেদের সঙ্গে আদনান সম্পৃক্ত বলে তাদের ধারণা। জাভেদের ভাই রনির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ তারই ইঙ্গিত বহন করে। সেন্ট্রাল লন্ডনের অভিজাত এলাকা ৩১ আর্কেডিয়া স্ট্রিটে গিয়ে দেখা যায়, আদনানের আইপিই হোল্ডিংয়ের অধীনে তৈরি করা বেলকোট অ্যাপার্টমেন্ট। স্থানীয় এক ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, ধর্মীয় উপাসনালয় (চার্চ) কিনে সেটা অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টে রূপান্তর করেছে আদনানের কোম্পানি। এখানে এক কক্ষের একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের দাম অর্ধ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা)। চার্চ ভেঙে অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও আছে। কিন্তু কেউ এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

২০২১ সালের ৩০ মার্চ ব্রিটিশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিল করা নথিপত্রে আইপিই হোল্ডিং কোম্পানির (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০৭২৩৬১৬৮) ২০২০ সালের টার্নওভার দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫০৬ পাউন্ড (প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা)। মোট মুনাফা দেখানো হয়েছে ৪১ লাখ ৪ হাজার ৮০১ পাউন্ড (৬০ কোটি ৫৭ লাখ)। ২০২০ সালে কোম্পানির মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮৩ পাউন্ড (১ হাজার ৪৩ কোটি টাকা)। দাখিল করা হিসাবে পরিচালক হিসেবে আদনান ইমামের সই রয়েছে। সবশেষ ২০২৩ সালে দাখিল করা আয়-ব্যায়ের হিসাবে টার্নওভার দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৬ হাজার ৪৬৩ পাউন্ড। মোট মুনাফা দেখানো হয়েছে ৬৫ হাজার ৬৫৬ পাউন্ড। আর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ ৯৭ হাজার ২৫৯ পাউন্ড। ২০২২ সালে মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৯২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩৬ পাউন্ড (প্রায় ১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা)।
যুক্তরাজ্যে আদনানের আরেক প্রতিষ্ঠানের নাম এডব্লিউআর ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০৫৪৭১২৮০। ৭২ উইলসন স্ট্রিট, লন্ডন, ইসি২এ ২ডিএইচ ঠিকানায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কোম্পানিটি। এর ছয় পরিচালক হলেন-মোহাম্মদ আদনান ইমাম, জুবায়ের শান, আরিফ সোবহান, ফয়সাল আনসারী, নেইল রোবার্ট ক্র্যামফার্ন ও গ্রোভ সাপোর্ট লিমিটেড। এডব্লিউআর নামে বাংলাদেশেও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি ঠিকাদারি কাজের কার্যাদেশের বিপরীতে ইউসিবি ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখা থেকে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঋণের টাকার বড় অংশ লন্ডনে পাচার করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া এডব্লিউআরের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ব্যাংক থেকে বিপুল টাকা ঋণ নিয়ে লোপাট করা হয়েছে। আর এই ঋণ নিতে ব্যাংকে যেসব ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়েছে তা তৈরি করা হয়েছে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে।
কোম্পানির চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিচালকদের জাল সই দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির লিগ্যাল ম্যানেজার বদরুল হাসান পাটোয়ারি। অর্থ পাচারের জন্য দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন আদনান। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-এনএমআই হোল্ডিংস লিমিটেড, মন্টিনিয়া হোল্ডিং লিমিটেড ও স্ট্যাটাস হোল্ডিংস লিমিটেড। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শ্রীলংকান ও ব্রিটিশ নাগরিকদের নামে এসব কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কোম্পানিগুলোর নামে ঢাকায় শেয়ার বাজারে বিও অ্যাকাউন্ট খুলে বিদেশি বিনিয়োগ দেখিয়ে কারসাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ বের করে পাচার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ-আদনান ইমামের এই অর্থ লোপাট ও পাচার সিন্ডিকেটে জড়িত এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল, ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের ভাই আনিসুজ্জামান চৌধরী রনি ও চৌধুরী নাফিজ শারাফাত। এরা মিলে মূলত আর্থিক খাত থেকে বিপুল টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচারে সক্রিয় ছিল। এই সিন্ডিকেটের হাত ধরে দুবাই ও যুক্তরাজ্যে খোলা বহু কোম্পানির মাধ্যমে অনেক সাবেক মন্ত্রী, এমপি, আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তারা বিপুল টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। একই নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য চেয়ে খুদে বার্তা পাঠালেও জবাব দেননি।
কোন উৎস থেকে অর্থ লোপাট করে যুক্তরাজ্যে পাচার করা হয়েছে তার অনুসন্ধানে জানা গেছে বিস্ময়কর অনেক তথ্য। ঋণের নামে ব্যাংক থেকে টাকা বের করে পাচার করেছেন আদনান ও রনি। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মাত্র তিন বছরে আদনান ইমাম তার কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নামে-বেনামে বহু কাগজে কোম্পানি খুলে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দেননি। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিপুল এই টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন।
২০১৮ সালে ডিআইটি রোড, ডবল মুরিং চট্টগ্রামের ঠিকানায় টিএসএন ট্রেড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামের কোম্পানি খোলেন আদনান। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নাম দেওয়া হয় আদনানের ঘনিষ্ঠ জনৈক খোরশেদ আহমেদের। তবে কোম্পানির সব ডকুমেন্টে তার হয়ে সই করেন আদনানের কোম্পানি এডব্লিউআরের লিগ্যাল ম্যানেজার বদরুল হাসান পাটোয়ারি।
এই কোম্পানির নামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে বাগেরহাটে নৌবাহিনীর ৮৩ খাল খনন প্রকল্পের ৫৩০ কোটি টাকার কাজ পায় আদনানের কোম্পানি এডব্লিউআর ডেভেলপমেন্ট বিডি লিমিটেড। এই কাজের কার্যাদেশের বিপরীতে ইউসিবি ব্যাংক কাওরান বাজার শাখা থেকে ৭০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।
কাজের দরের চেয়ে ১৭০ কোটি টাকা বেশি ঋণ অনুমোদনের নেপথ্যে ছিলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ভাই রনি ও তার খালাতো ভাই কাওরান বাজার শাখার ম্যানেজার আলমগীর কবির অপু। আরও চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে খাল খনন কাজের সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় এডব্লিউআরের সঙ্গে ৪১০ কোটি টাকার কাজের চুক্তি বাতিল করে নৌবাহিনী। এ হিসাবে মাত্র ১২০ কোটি টাকার কাজ করে আদনানের কোম্পানি। অথচ এই তথ্য গোপন করে আগের অনুমোদিত পুরো ৭০০ কোটি টাকা তুলে বিদেশে পাচার করে আদনান ও তার সহযোগীরা। এডব্লিউআর ড্রেজারের নামে ইউসিবি ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখা থেকে দুটি ড্রেজার কেনা বাবদ ১৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ৮০ কোটি টাকায় ড্রেজার দুটি কেনা হলেও ওভারভ্যালুয়েশন দেখিয়ে ঋণ দেওয়া হয় দেড়শ কোটি টাকা।
এছাড়া আদনানের আইটি খাতের কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড ও আইটি খাতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেনেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের নামে ওয়ান ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে লোপাটের অভিযোগ আছে। পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার কারসাজি করেও শত শত কোটি টাকা বাজার থেকে সরিয়ে পাচারের অভিযোগ আছে আদনান চক্রের বিরুদ্ধে।
আদনান ইমামের বক্তব্য জানার জন্য তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অপর পাশ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।








