পর্তুগালের রাজধানী লিসবোনে মেট্রোরেল শ্রমিকদের ডাকা ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটে পুরো শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোর থেকেই শহরের মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
শহরের প্রধান গণপরিবহন সংস্থা মেট্রোপলিটানো দে লিসবোয়া-এর ইয়েলো, ব্লু, গ্রিন ও রেড—সব লাইনই বন্ধ রয়েছে, ফলে কর্মস্থলমুখী হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। শ্রমিক সংগঠন ফেকট্রান্স-এর আহ্বানে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ২০১৯ সালে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হওয়া চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—বিশেষ করে কর্মপরিবেশ, প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ-সুবিধা—এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং কাঠামোগত সমস্যার সমাধান।
ধর্মঘটের কারণে কোনো ন্যূনতম পরিষেবাও চালু না থাকায় সকাল থেকেই যাত্রীরা বিকল্প পরিবহনের জন্য হন্যে হয়ে পড়েন। বাস, ট্যাক্সি ও ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ায় শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অফিস সময়ের ভিড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিসবনের মতো ব্যস্ত শহরে মেট্রো বন্ধ থাকলে পুরো নগর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। এতে শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এই ধর্মঘট দিনভর চলবে এবং মধ্যরাতে শেষ হওয়ার কথা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামীকাল (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে মেট্রো পরিষেবা আবার চালু হবে। এদিকে, যাত্রীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে নতুন ঘোষণা। একই মাসের ১৪ এপ্রিল আবারও ধর্মঘটের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি করছে।







