বিনা অনুমতিতে সৌদি আরবে যাওয়ার জেরে লিওনেল মেসিকে দুসপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পিএসজি। তার সাথে চুক্তি নবায়ন করবে না বলেও খবর। অশান্ত অবস্থার মধ্যে আগুনে ঘি ঢেলেছে সমর্থকরা। ক্লাবটির প্রধান কার্যালয় ও নেইমারের বাড়ির সামনে গিয়ে খেলোয়াড় সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়েছে। বিশ্বকাপজয়ী মেসিকে ‘ভাড়াটে’ খেলোয়াড় বলে স্লোগানও দিয়েছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে’কিপের খবর, মূলত লরেন্টের বিপক্ষে হারের কারণেই বিপত্তি। ওই ম্যাচের পরের দুদিন কোনো অনুশীলনের কথা ছিল না ফরাসি জায়ান্টদের। হেরে যাওয়ার পর সোমবার অনুশীলনের ঘোষণা দেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনাটি আগেই চূড়ান্ত করে রেখেছিলেন মেসি।
ক্লাব অনুমতি না দিলেও সৌদি গেছেন মেসি। তাতে ক্লাবের ভেতর শুরু হয় ঝড়। বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তিকে ২ সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করে পিএসজি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর আসে।
বুধবার বিকেলে পিএসজির প্রধান কার্যালয়ের সামনে হাজির হয় সমর্থকগোষ্ঠী আল্ট্রার কয়েকশ সদস্য। ক্লাবের প্রতি সমর্থকদের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে হাতে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে। দলটির কোচ গালতিয়েরকে নিয়েও বাজে মন্তব্য করেছে তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পিএসজির প্রধান কার্যালয়ের সামনে প্রায় কয়েকশ সমর্থক মেসি, নেইমার ও মার্কো ভেরাত্তিসহ ক্লাবের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্লোগান দিচ্ছে। একপর্যায়ে তারা মেসিকে অকথ্য ভাসায় গালাগালিসহ ‘ভাড়াটে’ খেলোয়াড় বলে স্লোগান দিতে থাকে। যা রীতিমতো মিছিলের রূপ নেয়।
মেসি শুধুমাত্র টাকার জন্য খেলেন এবং ক্লাবের প্রতি তার কোনো দরদ নেই- এমনটা বোঝাতে সমর্থকরা বলতে থাকে, ‘আমরা ভাড়াটের উপর বিরক্ত, অবশ্যই মেসিকে বরখাস্ত করতে হবে।’
মেসিকে কটাক্ষ, নেইমারের বাড়ির সামনে সমর্থকদের হানা ও ক্লাবের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের বিষয়টি অবশ্য ভালোভাবে নেয়নি পিএসজি। ক্লাবটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘বুধবার সংঘটিত একটি ছোট গোষ্ঠীর অসহনীয় এবং অপমানজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন। মতের পার্থক্য যেটাই হোক না কেনো, কিছুতেই এধরনের কর্মকাণ্ডকে পিএসজি সমর্থন করে না। এমন লজ্জাজনক আচরণের ঘটনায় ক্লাব তার খেলোয়াড়, ম্যানেজমেন্ট ও সংশ্লিষ্টদের পূর্ণ সমর্থন দেবে।’








