বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের লড়াই ধীরে ধীরে শেষ প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২৮ জুন সকাল ৮টায় আমেরিকার ডালাসে আর্জেন্টিনা এবং জর্ডানের মধ্যেকার ম্যাচের মধ্যে দিয়ে প্রথম পর্বের খেলা শেষ হবে। ইতিমধ্যে মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, নরওয়েসহ বেশ কয়েকটি দলের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা নিশ্চিত হয়েছে।
পয়েন্টের নিখুঁত হিসেব নিকেশে অন্যান্য দলগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাবে দ্রুতই। এদিকে প্রথম পর্বেই কে বেশি গোল করার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সেই ক্লাইম্যাক্স জমে উঠেছে। এখন পর্যন্ত লিওনেল মেসি ২ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫টি গোল করে সবার থেকে এগিয়ে। মেসির পরেই রয়েছেন আরেক দুর্ধর্ষ স্ট্রাইকার ফ্রান্সের এমবাপে। পেছনে রয়েছেন নরওয়ের আরেক চোখ ধাঁধানো স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। হালান্ডও ৪ গোল করেছেন। ৩ গোল করেছেন জার্মানির ডেনিজ উন্দাভ, কানাডার জোনাথন ডেভিড।
এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা কে হবেন সে হিসেব নিকেশ করছেন এখন ফুটবলপ্রেমিকরা। গত বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৮ গোল করেছিলেন ফ্রান্সের এমবাপে। ৭ গোল করে এমবাপের পেছনে ছিলেন মেসি। এবারও সবার চোখ লিওনেল মেসি এবং এমবাপের দিকে। গ্রুপের প্রথম দুম্যাচে এ দুজনের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে সর্বোচ্চ গোলের নিশানা তারা ভালোভাবেই করেছেন। আর্জেন্টিনা প্রথম পর্বের দুম্যাচে যে ৫টি গোল পেয়েছে তার সবগুলোই এসেছে মেসির পা ছুঁয়ে।
জাতীয় দলের সাবেক তুখোড় স্ট্রাইকার মাহমুদুল হক লিটন মনে করেন গোলের শীর্ষে মেসির থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মেসি না হলে এমবাপে। এ দুজনের একজনই হবেন।
আশি ও নব্বই দশকের এক বিরাট সময়জুড়ে ঢাকার মাঠের জনপ্রিয় স্ট্রাইকার হিসেবে খ্যাত ছিলেন মাহমুদুল হক লিটন। তার দূরপাল্লার শট ছিল ট্রেডমার্ক। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন অনেক অনেক দিন। বর্তমানে ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন।
এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা আসলেই কে হবেন? মেসি, এমবাপে, হালান্ড না হ্যারি কেন? নাকি নতুন কেউ? এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল হক লিটন বললেন, ‘সবকিছুই ডিপেন্ড করবে দ্বিতীয় রাউন্ডে কোন দল সামনে কাকে কেমন প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে। তবে প্রথম রাউন্ড দেখে মনে হচ্ছে মেসিই সর্বোচ্চ গোল করার দিকে এগিয়ে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন হল ২৮ জুন নিয়ে। এদিন মেসি খেললে একরকম। না খেললে অন্যরকম।’ লিটনের মতে, এদিন জর্ডানের সাথে খেলতে নামলে তিনি গোল পাবেন সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। একেবারে চাপহীনভাবে মেসি খেলছেন। পেনাল্টি মিস করলেও তার কিছু যায় আসে না। তার খেলা যেনো এক প্রেমময় উপাখ্যান।
মাহমুদুল হক লিটন আরও বললেন, ‘মেসির পাশাপাশি এগিয়ে যাচ্ছেন ফ্রান্সের এমবাপেও। তিনিও দারুণ খেলছেন। তার সাহসী খেলা খুবই আনন্দময়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্স কী করে সেটা দেখার বিষয়। ২৭ জুন নরওয়ে বনাম ফ্রান্সের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ হবে। এ ম্যাচে এমবাপে এবং আরলিং হালান্ড একে অপরের মুখোমুখি হবে। দুজনের মধ্যেই গোল ক্ষুধা তীব্রভাবে দৃশ্যমান। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। এ ম্যাচেও গোল হবে। সেক্ষেত্রে গোল করার জন্য দুজনই নিজেদেরকে উজাড় করে খেলবে। তবে এই ম্যাচে খুব বেশি গোল হবে বলে মনে হয় না।’
এদিকে ২৮ জুন ইংল্যান্ড সামনে পাবে পানামাকে। পানামা ঠিক সেভাবে জেগে উঠতে পারেনি এই বিশ্বকাপে। ফলে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনেরও সুযোগ থাকবে নিজের স্কোরকে আরও বেশি এগিয়ে নেওয়ার। মাহমুদুল হক লিটন জোর দিয়ে বললেন, ফুটবল গোলের খেলা। গোলহীন ফুটবল পানসে মনে হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় কে মোকাবিলা করবে সেটার ওপর নির্ভর করছে গোলের দিকে কে আরও বেশি এগিয়ে যাবেন। সেদিক থেকে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সকে বেশি এগিয়ে রাখতে চাই।
এখন পর্যন্ত খেলার ধরনে মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। এছাড়া ইংল্যান্ড, হল্যান্ড, ব্রাজিল- সেমিফাইনালের দিকে উঠে আসবে। সেমিফাইনালে যদি আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স উঠে আসে তাহলো সর্বোচ্চ গোলের লড়াইটা মেসি ও এমবাপেকে ঘিরেই দৃশ্যমান থাকবে। আসলে এ দুজনই দারুণ খেলছেন। কাউকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। ডিবক্সের আশেপাশেতো এমবাপে খুবই ডেঞ্জারাস। তার স্ট্রেন্থ ও রানিং দেখার মতো। ডিফেন্স তছনছ করতে তার জুড়ি মেলা ভার। এমবাপে যেকোনো সময় সবকিছু ভেঙেচুরে দেওয়ার অদম্য ক্ষমতা রাখে। মাহমুদুল হক লিটন বরাবরই ব্রাজিলের সমর্থক। কিন্ত ব্রাজিলকে নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী নন। তার ধারণা আরও দু-এক বিশ্বকাপের পর ব্রাজিল ফিরে আসবে আপন ভুবনে।







