জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় নাট্যাচার্য ড. সেলিম আল দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে।
বুধবার ১৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দিবসটি পালিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকাল ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবন থেকে একটি স্মরণযাত্রা বের করা হয়। স্মরণযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের সমাধি প্রাঙ্গণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
এসময়, জাবির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার বলেন, “হাজার বছরের বাংলা নাট্যধারার মাঝে সেলিম আল দীন যেমন সন্ধান করেছিলেন শিল্পের মূল সূত্র, আবার শিল্প সৃজনের পথে তিনি ক্রমাগত ভেঙ্গেছেন আঙ্গিকের অবয়ব। শিল্প-অবয়বের নিরন্তর ভাঙ্গনে গড়নে, তার নাটকে উঠে আসে এই জনপদের জীবন এক মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এই নিরীক্ষাধর্মী ও শেকড়মুখী নাট্যকারকে শ্রদ্ধাভরে তার ১৯তম প্রয়াণ দিবসে স্মরণ করছে। নিজ আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্দ্য অংশ হিসেবে; যার হাত ধরেই সৃষ্টি এই বিভাগের তার অবর্তমানে, তার সৃষ্টি ও শিল্পচিন্তা আমাদের নিরন্তর প্রেরণার উৎস।”
এসময়, সেলিম আল দীনের সমাধিতে ঢাকা থিয়েটার, গ্রাম থিয়েটার, ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র, অফিসার সমিতি, আরশিনগর, স্বপ্নদল থিয়েটার, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র, অন্বিতা-সেলিম আল দীন বিদ্যাপীঠ, কাকতাড়ুয়া পাপেট, বুনন থিয়েটার, শহীদ টিটু থিয়েটারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী ও কলাকুশলীরাও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
এদিকে, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে পুরাতন কলা ভবনে ‘সেলিম আল দীন ও বাংলা নাট্যের বিঔপনিবেশিক আত্মপরিচয়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফসুফ হাসান অর্ক, দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নিজার।
সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তার হাত ধরেই ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি বিভাগটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।







