২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সংসদ সদস্যদের আমদানি করা গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এর পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছেন তিনি। তার এ প্রস্তাবনা পাশ হলে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা আর থাকছে না।
বর্তমানে জাতীয় সংসদের সদস্যরা কোনো শুল্ককর ছাড়াই গাড়ি আমদানি করতে পারেন। ৩৬ বছর ধরে এই সুবিধা পেয়ে আসছেন তারা। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন: সংসদ সদস্যগণ কর্তৃক গাড়ী আমদানিতে সকল প্রকার শুষ্ক কর অব্যাহতি বিদ্যমান রয়েছে। সকল স্তরে কর অব্যাহতির সংস্কৃতি হতে বের হয়ে আসার জন্য সবাইকে রাজস্ব প্রদানে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। জন প্রতিনিধি হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত দেয়ার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে মাননীয় সংসদ সদস্যগণের সকল প্রকার শুল্ক-কর পরিশোধ ব্যতিরেকে গাড়ী আমদানির প্রাধিকার কিছুটা পরিবর্তন করা একটি মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এই উদ্দেশ্যে মাননীয় সংসদ সদস্যগণ কর্তৃক গাড়ী আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কর অব্যাহতির সুবিধা সংক্রান্ত বিধানটি পরিবর্তন করা যেতে পারে। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে এ সংক্রান্ত বিধান The Members of Parliament (Remuneration & Allowances) Order, ১৯৭৩ এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী অন্ত্ক্ত করার প্রস্তাব করছি।
‘গাড়ি আমদানিতে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে সম্পূরক শুল্ক থেকে। বর্তমানে গাড়ির ইঞ্জিনের সিসিভেদে ৪৫ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু সংসদ সদস্যদের আমদানি করা গাড়িতে সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়নি। গাড়ির দাম ও আমদানি শুল্কের যোগফলের ওপর সম্পূরক শুল্ক বসে। সাধারণ আমদানিকারকদের আমদানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক দিতে হয়। সুতরাং সংসদ সদস্যদের ওপর শুধু আমদানি শুল্ক বসার কারণে তাদেরকে খুব বেশি রাজস্ব দিতে হবে না।’
সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা প্রথম দেওয়া হয় জেনারেল এরশাদ সরকারের আমলে। এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ২৪ মে এ–সংক্রান্ত সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ক্ষমতায় এসেও এই সুবিধা বহাল রাখে। সরকারি নথিপত্রে দেখা গেছে, সব দলের সংসদ সদস্যরাই শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানি করছেন।








