মেলবোর্ন টেস্টের দ্বিতীয় দিনকে একেবারেই নিজের করে নিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। দশম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে করলেন সেঞ্চুরি। সেখানেই থেমে থাকেননি। ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রার ভেতর ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরিটাও তুলে নিলেন। ১৪৫ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে শততম টেস্টে করলেন ডাবল সেঞ্চুরি।
শততম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি টেস্ট ইতিহাসে এর আগে কেবল জো রুট করেছিলেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংলিশ ব্যাটার ২১৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
সাউথ আফ্রিকার ১৮৯ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৮৬ রান। সফরকারীদের চেয়ে অজিরা ১৯৭ রানে এগিয়ে আছে।
এক উইকেটে ৪৫ রান নিয়ে স্বাগতিকরা দিনের খেলা শুরু করে। মার্নাস লাবুশেন ১৪ রান করে রান আউট হন। এরপর স্মিথের সঙ্গে ওয়ার্নারের জুটি জমে যায়। লাঞ্চের খানিক পরই ১৪৪ বলে শতকের দেখা পান ওয়ার্নার।
সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও তা মিস করেন স্মিথ। ৯ চার ও এক ছক্কায় ৮৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ভেঙে যায় ওয়ার্নারের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ২৩৯ রানের জুটি। শতক না পেলেও মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এক হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন স্মিথ। নবম অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার হিসেবে তিনি এই কীর্তি গড়েছেন।
৫ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ক্রিজে থেকে ওয়ার্নার রানের চাকা সচল রাখতে মোটেও চার-ছক্কার মারের উপর নির্ভরশীল ছিলেন না। দৌড়ে এক রান নিয়েছেন ৬৩ বার, দুই রান নিয়েছেন ১৪ রান ও তিন রান নিয়েছেন সাতবার। ৩৬ বর্ষী হয়েও দেখিয়েছেন বিস্ময়কর ফিটনেস। দৌড়ে চার রান নিয়েছেন তিনবার! এছাড়া ১৪টি চার ও ২ ছক্কার মার তো ছিলই।
ডাবল সেঞ্চুরির উদযাপন করতে গিয়ে লাফ দিলেছিলেন অজি ওপেনার ওয়ার্নার। মাটিতে পা রাখার সময় লাগে টান। তাতেই ব্যথার যন্ত্রণা নিয়েদুজনের কাঁধে ভর দিয়ে তাকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ার সময় ২৫৪ বলে ২০০ রানেই তার ইনিংসে ছেদ পড়ে।
মার্ক ওয়াহকে ছাড়িয়ে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রানের তালিকার সপ্তম স্থানে উঠেছেন ওয়ার্নার। তার মোট রান এখন ৮,১২২।
ওয়ার্নারের পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ক্যামেরন গ্রিন। প্রোটিয়া পেসার এনরিচ নর্টজের দ্রুতগতির বল তার ডান হাতের তর্জনী আঙুলে আঘাত পাওয়ার পর ৬ রান করা গ্রিন আর ব্যাট করতে পারেননি।
নর্টজে আজ ধারাবাহিকভাবে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেছেন। তার দ্রুততম বলটি ছিল ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার বেগে।
ট্রাভিস হেড আগ্রাসী ব্যাটিং করে ৪৮ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৪৮ রানে অপরাজিত আছেন। তার সঙ্গে ৯ রান করে রয়েছেন অ্যালেক্স ক্যারি। তৃতীয় দিন এ দুই ব্যাটার লিডকে আরও বাড়িয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ক্রিজে নামবেন। ওয়ার্নার ও গ্রিনকেও হয়তো আবার ব্যাট হাতে দেখা যাবে।
সাউথ আফ্রিকার পক্ষে একটি করে উইকেট পান কাগিসো রাবাদা ও এনরিচ নর্টজে।







