উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ে বইছে উন্নয়নের উত্তাল হাওয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল ‘ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ’। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মন্ত্রণালয় সূত্রে এই খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আদেশের অনুলিপি ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই নতুন কলেজটি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে দেশে বর্তমানে সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৮-এ।
বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানচিত্র
শুধু মেডিকেল কলেজই নয়, ঠাকুরগাঁওকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট জেলা হিসেবে গড়তে নানামুখী মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নির্মাণকাজ এখন সমাপ্তির পথে। দক্ষ জনবল তৈরিতে জেলায় একটি নার্সিং কলেজেরও অনুমোদন পাওয়া গেছে।
নাগরিক সেবাকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সদর উপজেলাকে ভেঙে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লি’ নামে দুটি নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এই ঘোষণায় এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে, হয়েছে আনন্দ মিছিল। বিসিক শিল্প নগরী-২ এর কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের নতুন আশা জাগছে।
ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দরটি পুনরায় সচল করা। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তব হওয়ার পথে।
আগামী ২০ মে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসছেন। মন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এখন সাজ সাজ রব। বিমানবন্দরটি চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরব রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী, তিনি ঠাকুরগাঁওকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে, ঠাকুরগাঁও পৌরসভাকে একটি আধুনিক মডেল শহরে রূপান্তরের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। শহরের যানজট নিরসনে বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাটের আধুনিকায়নে নেওয়া হয়েছে বিশেষ মেগা প্ল্যান।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার স্কুল হাট গ্রামের ভুট্টা চাষী শরিফুল ইসলাম বলেন, “উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য এবং সময়মতো কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করা হলে ঠাকুরগাঁও কৃষিতে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।”
তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বুধবার জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সুফল তুলে ধরেন।
তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং খাস জমি বন্টনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও জেলা এখন উন্নয়নের অভিযাত্রায় অগ্রণী।”
সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন বলেন, “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও বিমানবন্দর চালুর দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। আজ তার প্রতিফলন ঘটছে, এটি আমাদের বড় বিজয়।”
মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মৌসুমি রহমান বলেন, “উন্নয়নের ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে, এখন শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নের এই মেগা প্রকল্পগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে ঠাকুরগাঁও হবে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিক্ষা হাব।








