বিশ্বব্যাপী হাম সংক্রমণ কমলেও বাংলাদেশে হঠাৎ করে এর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার।
বিবিসি বাংলা এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ৯০০টির বেশি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে- যাদের বেশির ভাগই শিশু।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স শিশুদের টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “টিকা শিশুদের বেঁচে থাকার মৌলিক ভিত্তি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুরাই বেশি হুমকির মুখে রয়েছে।”
প্রাদুর্ভাবের কারণ কী
দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নয় মাস বয়স থেকে শিশুদের হাম টিকা দেওয়া হয়। তবে এবারের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই নয় মাসের কম বয়সী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, এই বয়সী শিশুরা এখনো টিকা পাওয়ার উপযুক্ত না হওয়ায় তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি হওয়া উদ্বেগজনক।
প্রতি চার বছর অন্তর বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হলেও ২০২০ সালের পর থেকে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ২০২৪ সালের ক্ষমতার পরিবর্তন এবং চলতি বছরের নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে টিকাদান কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া সরবরাহ জটিলতার কারণে বিভিন্ন টিকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। ইউনিসেফের মতে, হাম পুনরুত্থানের পেছনে সাধারণত একক কারণ নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে টিকাদান কার্যক্রমে ছোট ছোট ঘাটতির প্রভাব থাকে।
বিশ্ব পরিস্থিতি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, গত দুই দশকে বিশ্বে হাম রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ হাম আক্রান্ত হলেও ২০০০ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও হাম বাড়ছে। ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারির পর টিকা নিয়ে মানুষের উদাসীনতা ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে এশিয়া ও আফ্রিকার পাশাপাশি ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যেও হাম সংক্রমণ বাড়ছে। উত্তর লন্ডনের কিছু স্কুলে সাম্প্রতিক সংক্রমণের পর সেখানকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের সন্তানদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।







