মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা তিনটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
আজ ১৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার পরে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। আতিকের বিরুদ্ধে রিমান্ড না চাওয়ায় সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামকেকারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলী হায়দারের আদালত।
এদিকে একই আদালতে বিভিন্ন থানার হত্যা মামলায় সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান সৈকতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র মোহাম্মদ আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মোহাম্মদপুর থানায় আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক জয় লাভ করেন। কিন্তু তার মৃত্যুতে মেয়রের আসনটি শূন্য হওয়ার পর ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুনরায় উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যাতে আওয়ামী লীগের সমর্থনে আতিকুল ইসলাম জয়লাভ করেন।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পুনরায় মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। সরকার বদলের প্রেক্ষাপটে গত ১৯ অগাস্ট ২০২৪ সালে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। আতিকুল ইসলাম ও তার ভাই শফিকুল ইসলাম ১৯৮৫ সালে ইসলাম গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে পোশাকখাতে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি গ্রুপটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ২০১৩-১৪ মেয়াদে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ অগাস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর একে একে গ্রেপ্তার হচ্ছেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা।








