ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক কোরবানি পশুরহাট। এরই মধ্যে জমে উঠেছে হাটগুলো। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরদামে গরম হাটের পরিবেশ। তবে, অন্যান্য বারের মতো এবারও মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বৃষ্টির কারণে সন্ধ্যার পর কিছুটা থমকে থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ক্রেতারা বাজারে আসতে শুরু করেছেন।
ঢাকায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে উত্তর-দক্ষিণ দুই সিটি করপোরেশনে ২২টি পশুর হাট বসেছে এবছর। তবে ক্রেতারা বলছেন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি দাম চাইছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন: ক্রেতারা আসছেন ঘুরে দেখছেন, দাম শুনছেন। কেউ বা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। যা এখন পর্যন্ত আশানরুপ না হলেও কাল-পরশু থেকে বেচা-বিক্রি বাড়বে বলে প্রত্যাশা তাদের। কারণ হিসেবে তারা বলছেন ঢাকায় রাখার জায়গার সঙ্কটের কারণে সাধারণত ক্রেতারা কোরবানির দু-একদিন আগেই কোরবানির পশু ক্রয় করেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসিলা, গাবতলী, হাজারীবাগ, তেজগাঁওয়ের পশুর হাটে সরেজমিনে ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে সকালের তুলনায় বিকালের পর থেকে বেশি ক্রেতা আসতে দেখা গেছে। গরুর নির্ধারিত শেডের বাইরে এসে সম্মুখ সড়কের কাছাকাছি এসে গরু নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। বসিলায় সেখানে কথা হয় ঝিনাইদহ থেকে আসা ব্যাপারী রফিক মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান: আজ হাট শুরু আরও তিন দিন আগে এক গাড়িতে ১৮টি গরু নিয়ে তিনি এসেছে। এখন পর্যন্ত ৬টি গরু বিক্রি হয়েছে তার। দরদাম হচ্ছে আশা করছেন আজ অথবা কালকের (শুক্রবার) মধ্যে সব গরু বিক্রি করে দেশে ফিরতে পারবেন তিনি।
গাবতলি হাটের সুখচান ব্যাপারি বলছেন: এ বছর আরে তুলনায় ছোট এবং মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। তিনদিন হলো এ হাটে আছি। আজ গরু বিক্রি বেশি হচ্ছে। দাম-দর বেশি হচ্ছে। কাল তো পুরোদমে জমবে হাট। আজই বেচে দিলাম ৯টা। রাতে আরও গরু আসছে। এবার ছোট গরুতেই লাভ।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ ছোট গরুতে ব্যাপারিরা বেশি দাম চাইছে। হাজারীবাগে গরু কিনতে এসেছেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন। তিনি বলছেন: হাট ঘুরে ফেলেছি। এবার ছোট গরুর দাম বেশি চাইছে বিক্রেতারা। বাড়ির জন্য মাঝারি দুটি গরু কিনবো। এখন মনে হচ্ছে একটা বড় গরু কিনলেই ভালো হতো। দুই-আড়াই লাখে নিচে ব্যাপারীরা গরুর দামই চাইছে না।
এ বছরের কোরবানি ঈদের গরুর পাশাপাশি খাসি ছাগলের চাহিদাও রয়েছে বেশ ভালো। ৮ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ক্রেতারা কোরবানি উপযোগি খাসি কিনতে পারছেন। তবে ১০ লাখ টাকা দামের খাসির দেখাও মিলছে গাবতলীর হাটে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট
দনিয়া কলেজ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ড, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, কমলাপুর স্ট্রেডিয়াম সংলগ্ন এবং বিশ্বরোড সংলগ্ন লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব এলাকার আশপাশের খালি জায়গা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে শারুলিয়ার স্থায়ী হাট।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আওতাধীন ৯টি পশুর হাট
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গা, ৪৪ নাম্বার ওয়ার্ডের কানচুকুরা বেপারিপাড়া রহমান নগর আবাসিক এলাকা, খিলক্ষেতের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্তুল চেকপোস্ট এলাকা, ভাটারার সুতিভোলা খাল সংলগ্ন এলাকা, উত্তরার ১৬ ও ১৮ নাম্বার সেক্টরের বউ বাজার এলাকা এবং মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা ও মোহাম্মদপুর বসিলার ৪০ ফুট রোডের খোলা জায়গা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে গাবতলী স্থায়ী পশুর হাট।








