গ্রেট শো অন আর্থ তথা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ গড়াতে আর বাকি দশদিনেরও কম সময়। প্রথমবারের মত অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। ৪টি করে দল নিয়ে মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে দেশগুলো। চ্যানেল আই অনলাইনের বিশ্লেষণে আজ গ্রুপ-এ। ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে মাঠে নামা মেক্সিকো, এশিয়ার পরাশক্তি সাউথ কোরিয়া, আফ্রিকান গতি তারকাদের সাউথ আফ্রিকা এবং ইউরোপীয় ফুটবলের চেনা শক্তি চেক রিপাবলিক (চেকিয়া) নিয়ে গঠিত এই গ্রুপটি।
কাগজে-কলমে এবং কন্ডিশনের সুবিধা বিবেচনায় মেক্সিকো এই গ্রুপে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ঘরের মাঠের চেনা দর্শক আর এস্তাদিও আজতেকার চড়া উচ্চতার সুবিধা তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রাখছে।
তবে মেক্সিকোকে সবচেয়ে বড় টক্কর দেবে সাউথ কোরিয়া। অভিজ্ঞতা ও বর্তমান স্কোয়াডের গভীরতায় কোরিয়ানরা বেশ শক্তিশালী। দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিটের জন্য মূল লড়াইটি হবে সাউথ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যে। যদি চেক প্রজাতন্ত্র তাদের ইউরোপীয় ঘরানার ফিজিক্যাল টেকনিক দিয়ে কোরিয়ান গতিকে রুখে দিতে পারে, তবে তারা চমক দেখাতে পারে। অন্যদিকে সাউথ আফ্রিকার লক্ষ্য থাকবে জায়ান্টদের হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম নকআউট পর্ব নিশ্চিত করা। শক্তিমত্তা ও ইতিহাসের বিচারে কে কতটা এগিয়ে, চলুন দেখে নেওয়া যাক এক নজরে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবশ্য ‘এ’ গ্রুপে সবার চেয়ে এগিয়ে মেক্সিকো। ১৫ নম্বরে আছে তারা। এরপরই অবস্থান সাউথ কোরিয়ার. র্যাঙ্কিংয়ে ২২ নম্বরে এশিয়ার দলটি। ৪৪ নম্বরে থাকা চেক রিপাবলিক আছে তৃতীয় স্থানে। সবার শেষে অবস্থান করা সাউথ আফ্রিকার ফিফা র্যাঙ্কিং ৬১।
মেক্সিকো:
ইতিহাসের প্রথম দেশ হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ আয়োজনের রেকর্ড গড়তে যাওয়া মেক্সিকো এই গ্রুপের সবচেয়ে বড় দাবিদার। ঘরের মাঠ ও চেনা কন্ডিশনে তারা কতটা ভয়ংকর, তা অতীতেও বিশ্ব দেখেছে। অবশ্য তাদের সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে কোয়ার্টার থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ১৫ নম্বরে থাকা এই দলটির রয়েছে একঝাঁক অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রতিভার মিশ্রণ। তবে ঘরের মাঠের আকাশচুম্বী চাপ সামলানোই হবে তাদের মূল চ্যালেঞ্জ।
সাউথ কোরিয়া
টানা ১১ বার এবং সবমিলিয়ে ১২তম বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া সাউথ কোরিয়া যেকোনো বড় দলের জন্য ত্রাস। ২০০২ সালে ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল খেলা কোরিয়ানরা গতির ফুটবল খেলতে ভালোবাসে। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলা তারকাদের হাত ধরে এই দলটির আক্রমণভাগ খুবই ধারালো। মেক্সিকোর পর এই গ্রুপ থেকে নক-আউটে যাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে সন হিউং-মিনদের দেশ।
চেক রিপাবলিক
বিশ্বকাপে সাফল্যের দিক থেকে অবশ্য এগিয়ে চেক রিপাবলিক। সেক্ষেত্রে অবশ্য একটু পেছনে ফিরতে হবে। ১৯৯৩ সালের আগে চেকোস্লোভাকিয়া নামেই বিশ্বকাপে অংশ গ্রহণ করতো দলটি। সেসময় আটবার অংশ নিয়ে ২ বারই রানার্সআপ হয় তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়া।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসর ১৯৩৪ সালে ইতালির বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয় দলটি। এরপর ১৯৬২ সালে চিলিতে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-১ গোলে রানার্সআপ হয় দেশটি। সেসময় দুবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়েছিল তারা। আর চার আসরেই গ্রুপপর্ব পেরোতে পারেনি।
১৯৯৩ সালে চেকোস্লোভাকিয়া ভাগ হয় চেক রিপাবলিক এবং স্লোভাকিয়া নামে দুটি দেশে। এরপরে আর দেশটি খুব বেশি সাফল্য পায়নি। ২০২৬ সালের আগে সাত আসরে কেবল একবারই বিশ্বকাপে অংশ নিতে পেরেছে দলটি। ২০০৬ সালে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে তারা। এবার অবশ্য ইউরোপিয়ান বাছাই পেরিয়ে ফের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে চেক রিপাবলিক। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিশ্বকাপে প্লে-অফ পার করে আসা এই দলটিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের ফিজিক্যাল ফুটবল ও মাঝমাঠের শক্তিমত্তা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
সাউথ আফ্রিকা
আফ্রিকান অঞ্চলের গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি টিকিট কাটা সাউথ আফ্রিকা গ্রুপ ‘এ’-এর সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দল। বিশ্বকাপে তিনবার অংশ নিলেও এখনো গ্রুপপর্বের বাধা পার হতে পারেনি তারা। তবে গতিময় ফুটবল ও নিখুঁত কাউন্টার অ্যাটাকে বাফানা বাফানা গ্রুপপর্বের সমীকরণ ওলটপালট করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও আজতেকাতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও সাউথ আফ্রিকা। ১২ জুন সকালে চেক রিপাবলিকের মুখোমুখি হবে সাউথ কোরিয়া।








