১৮ বছরের ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ১৬টি বছর কাটিয়েছেন বার্নাব্যুতে, বনেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ী খেলোয়াড়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে লা লিগা হয়ে সবকিছু জিতে স্পেনের রাজধানীর ক্লাব ছাড়লেন মার্সেলো ভিয়েরা। যাওয়ার আগে সমর্থকদের ভেতর রেখে গেলেন প্রশ্ন, ‘কোথায় যাচ্ছেন মার্সেলো’।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা উঁচিয়ে অভিজ্ঞ ব্লাঙ্কোস তারকার আবেগঘন উদযাপনই জানিয়ে দিয়েছিল, বার্নাব্যুতে আর থাকছেন না তিনি। অবশেষে হৃদয়ভাঙা সেই সন্ধিক্ষণ আসলো। নিজের ভবিষৎ না জানালেও চোখের জলে প্রিয় ক্লাবকে মনে রাখার কথাই ঘুরেফিরে আসলো মার্সেলোর কণ্ঠে। বুট জোড়া তুলে রাখার সময় হয়নি বলেও জানালেন।
‘খেলা চালিয়ে যাব, আমার মনে হয় আমি চালিয়ে যেতে পারব। যখন ভবিষ্যত সম্পর্কে কোনো খবর থাকবে, আমি ইনস্টাগ্রামে সেটি সম্পর্কে কথা বলব।’ বিদায়বেলা সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন অভিজ্ঞ ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার।
‘কোথায় যাচ্ছেন’ খোলাসা না করলেও স্পেনে থাকারই ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্সেলো, ‘যদি কোনোদিন রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলি, কোনো সমস্যা নেই। কারণ আমি একজন পেশাদার এবং রিয়াল মাদ্রিদ শিখিয়েছে কিভাবে এমন একজন হতে হয়।’

অশ্রুসিক্ত স্মৃতিচারণে দীর্ঘ পথচলার সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নিজের অর্জন, কিছু চাওয়া এবং না পাওয়ার ক্ষোভও রেখেছেন মার্সেলো। ক্যারিয়ারের শেষ সময়ে জিনেদিন জিদান ও কার্লো আনচেলত্তির অধীনে আরও বেশি ম্যাচ খেলতে না পারার দুঃখও করেছেন। প্যারিসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলতে না পারলেও ক্লাবের সদস্য হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন তিনি।
‘যখন আমি ব্রাজিল ছাড়লাম (২০০৭ সালে ফ্লুমিনেন্স এফসি), আমি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার স্বপ্ন দেখছিলাম। এবং আজ বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিরোপাধারী খেলোয়াড় হিসেবে চলে যাচ্ছি।’
বয়স মাত্র ১৯—২০০৭ সাল ফ্লুমিনেন্স থেকে উড়ে এলেন রিয়ালে। তাতেও ছিল নাটকীয়তা। স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ার উদ্দেশে বিমানে উঠে বার্নাব্যুতে অবতরণ করেন। এরপর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে টানা ১৬ বছর। ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন ২৫টি শিরোপা, ৫৬৪ ম্যাচে আছে ৩৮টি গোল। সতীর্থদের জালের দেখা পাইছেন আরও ১০৩ বার।








