ফুটবল

শেষ রক্ষা হল না, ভুয়া চুক্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ম্যানসিটি

শেষ রক্ষা হল না, ভুয়া চুক্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ম্যানসিটি

১১৫টির মধ্যে ১১৪টি অভিযোগের প্রমাণ এসেছিল ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে। সেটি প্রিমিয়ার লিগই নিশ্চিত করেছে। নয় বছর ধরে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের সমস্ত অভিযোগে সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে এজন্য। ক্লাবটি ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি পরিমাণ অর্থ নিজেদের আয় হিসেবে দেখিয়েছিল, যা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য বলে অভিযোগ এসেছে।

চাঞ্চল্যকর ঘোষণায় প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। লিগের গঠিত একটি স্বাধীন কমিশন জানায়, নির্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে ‘প্রতারণামূলক চুক্তি’ করেছে ক্লাবটি। কৃত্রিমভাবে রাজস্ব বাড়ানো ও খরচ কমানোর জন্য ‘ভুয়া চুক্তি’ এবং আর্থিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র গোপন করতে ভুল হিসাব দাখিল করেছে। ফলে ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করছে প্রিমিয়ার লিগ। হিসাবগুলো সঠিকভাবে দাখিল করা হলে লিগে এবং উয়েফার ব্যয়সীমার গুরুতর লঙ্ঘন ঘটত।

দেখা গেছে, ক্লাবটি আয় কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর জন্য খেলোয়াড় এবং তৎকালীন ম্যানেজার রবার্তো মানচিনির সাথে ভুয়া ইমেজ রাইটস চুক্তি করেছিল। সিটি জানিয়েছে, শুক্রবারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপিল করবে, এই যুক্তিতে যে, সিদ্ধান্তটিতে আইন, নীতি এবং তথ্যের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং এটি অনিরাপদ। তাদের প্রধান নির্বাহী ফেরান সোরিয়ানো, কর্মীদের কাছে পাঠানো ভিডিওতে বলেছেন সিদ্ধান্তটি একটি প্রিমিয়ার লিগ ষড়যন্ত্র তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে নেয়া হয়েছে।

স্বাধীন কমিশনের তত্ত্বাবধানে একটি শাস্তিমূলক শুনানির পাশাপাশি এই আপিলটি চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগ যতদ্রুত সম্ভব বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে আগ্রহী। লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স মামলাকে লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। ফলে একটি নজিরবিহীন শাস্তি দেয়া হবে, যার মধ্যে খুব সম্ভবত পয়েন্ট কাটা হতে পারে। এটি সিটিকে অবনমনের দিকে ঠেলে দেবে।

সিটির অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করলে, এখনও সরাসরি কোন নজির নেই। তবে ২০২১/২২ মৌসুমে লাভজনক ও স্থায়িত্বের নিয়মে ১৯.৫ মিলিয়ন পাউন্ড লঙ্ঘনের জন্য এভারটনের ১০ পয়েন্ট কাটা হয়েছিল। যা ছিল প্রিমিয়ার লিগের নির্ধারিত নিয়মে। নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক লঙ্ঘনের জন্য ছয় পয়েন্ট এবং ক্লাবের অতিরিক্ত ব্যয় করা প্রতি ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের আরও এক পয়েন্ট করে কাটা হয়।

শুনানির সময় সিটির সাক্ষীদের আচরণ সম্পর্কে কমিশন কঠোর মন্তব্য করেছে। কমিশন লিখেছে, ক্লাবের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে ডাকা বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসাক্ষীর সাক্ষ্য একাধিক মূল দিক থেকে মিথ্যা ছিল। তারা যুক্তি দেখিয়েছে, কিছু সাক্ষী এমন সাক্ষ্য দিয়েছেন যা তারা অসত্য বলে জানতেন এবং এর মাধ্যমে তারা অসৎ আচরণ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি প্রক্রিয়ার শুরু ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেসময় ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগ আনা হয়। তিন বছরের বেশি সময় পর এসে স্বাধীন কমিশনের রায়ে বিষয়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হল।

নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক ডেভিড অর্নস্টেইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১৫ অভিযোগের মধ্যে একটি বাদে সবকটি অভিযোগেই সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। যা শেষ পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগ থেকেই নিশ্চিত করা হল। স্বাধীন কমিশনের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার সিটি আপিল করবে। তবে ঠিক কী শাস্তি সেটির বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং প্রক্রিয়া চলমান।

বিষয়:প্রিমিয়ার লিগম্যানচেস্টার সিটি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…