প্রিমিয়ার লিগ মহারণে টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটি। পয়েন্টে কিছুটা এগিয়ে থাকা আর্সেনালের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে সিটি। ২ ম্যাচ কম খেলে সিটি পিছিয়ে ছিল মাত্র ৫ পয়েন্টে। চাপে থেকে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়েছিল মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। চাপ কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা, সুযোগ কাজে লাগিয়েছে সিটিজেনরা। ৪-১ গোলে হারিয়েছে অতিথিদের। গানারদের শঙ্কা জেগেছে মৌসুমের শেষদিকে এসে শীর্ষ হারানোর।
ঘরের মাঠে প্রথমার্ধেই আর্সেনালের জালে দুবার বল পাঠায় ম্যানসিটি। বিরতির পর দুবার। সিটিজেনদের গোল চারটিতেই সরাসরি অবদান রেখেছেন ডি ব্রুইন। নিজে করেছেন দুটি। স্টোনিসকে দিয়ে করিয়েছেন একটি। দুই অ্যাসিস্টের পাশাপাশি একটি গোল করেছেন হালান্ড। আর্সেনালের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন হোল্ডিং।
জয়ে শীর্ষ থেকে মাত্র ২ পয়েন্ট পিছিয়ে সিটি। দুটি ম্যাচও বেশি হাতে রয়েছে তাদের। ৩৩ ম্যাচে ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে এখনও শীর্ষে আর্সেনাল। ৩১ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে লড়াইটা ছিল বেশ জমজমাট। বল দখলে দাপট ছিল স্বাগতিকদের। আক্রমণেও এগিয়ে ছিল গার্দিওলার দল। সাত মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে হালান্ডের বাড়ানো বলকে গোলে পরিণত করেন ডি ব্রুইন। পরে বেশকিছু সুযোগ আসে সিটির সামনে। ব্যর্থ হতে হয় আর্সেনাল রক্ষণে।
স্বাগতিকদের দ্বিতীয় গোলটি আসে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। ব্রুইনের বাড়ানো বল হেডে জালে পাঠান স্টোনিস। গোলটিতে অবশ্য সহকারী রেফারি অফসাইডের সঙ্কেত দিয়েছিলেন। ভিএআর অফসাইড বাতিল করে গোল ঘোষণা করে।
সিটির ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর অবশ্য একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মাঠের পরিবেশ। আর্সেনাল ডিফেন্ডার বেন হোয়াইট ও সিটি ডিফেন্ডার রোবেন ডিয়াজের মধ্যে বল দখল নিয়ে সংঘর্ষ ঘটে। রেশ ছড়ায় পাশে থাকা অন্যদের মাঝেও। পরে অবশ্য রেফারি হলুদ কার্ড দেখান ডিয়াজকে। সিটিজেনরা প্রথমার্ধ শেষ করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।

বিরতির পরও আধিপত্য ছিল ম্যানসিটির। আক্রমণেও ছিল ধারাবাহিকতা। ৫৪ মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন ডি ব্রুইন। হালান্ডের পাস থেকে সিটিকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার। আর্সেনাল ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও গোল আদায়ের মতো কোনো আক্রমণ করতে পারেনি। ৭৪ মিনিটে আরও একবার উত্তপ্ত হয় মাঠের পরিবেশ।
বল দখলের লড়াই হাতাহাতিতে রূপান্তর করেন জ্যাক গ্রিলিশ ও থমাস পার্তি। এতে অবশ্য দুজনকেই দেখতে হয় হলুদ কার্ড। ৮৪ মিনিটে ব্যবধান কমায় আর্সেনাল। ট্রসার্ডের পাস থেকে ব্যবধান কমান স্যামুয়েল হোল্ডিং। পরে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে উত্তেজনা ছড়ায়। আর্সেনাল গোলের দেখা না পেলেও যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান হালান্ড। ফোডেনের বাড়ানো বল গোলে পরিণত করেন নরওয়ে তারকা। ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে সিটিজেনরা।







