জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল-সহ ডিসি নর্থ, স্বাস্থ্য পরিচাল, স্বাস্থ্য শিক্ষা পরিচালককে বদলি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এছাড়া চিকিৎসকদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিয়ে তাদের কর্মবিরতি তুলে নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাড়িতে তার ও প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সাথে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। প্রায় রাত ১২টার পর জুনিয়র ডাক্তাররা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে বের হন।
বাসে উঠে তারা জানান, ‘বৈঠক সফল হয়েছে। তাদের প্রায় সব দাবি মানা হয়েছে। পুলিশ কমিশনারকে সরানো হচ্ছে। বাকিটা তারা বিক্ষোভস্থলে জানাবেন।’
মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবারের মধ্যে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে সরনো হচ্ছে। জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে নিয়ে স্বাস্থ্য অধিকর্তা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তাকেও সরানো হবে। তাদের সবাইকে অন্য পদ দেয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আমি ৯৯ শতাংশ দাবি মেনে নিয়েছি। আর কী করব? এবার আশা করছি, তারা কাজে ফিরবেন।
তিনি বলেন, জুনিয়র ডাক্তারদের পাঁচটি দাবি ছিল। তার মধ্যে প্রথমটি সিবিআই ও আদালতের বিষয়ে। বাকি চারটি দাবির মধ্যে তিনটি মেনে নিয়েছে সরকার। বিনীত গোয়েলকে পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। তাকে তার পছন্দের পদ দেয়া হবে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
মমতা বলেছেন, দাবি মেনে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (উত্তর) অভিষেক গুপ্তকে সরানো হচ্ছে, স্বাস্থ্য অধিকর্তা কৌস্তভ নায়েক এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস হালদারকেও সরানো হচ্ছে।
তিনি জানান, কাউকে অসম্মান করা হয়নি। চিকিৎসকদের আস্থা নেই বলে ওদের সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের দাবি মতো হাসপাতালের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নানান সমস্যা দূর করতে মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে কমিটি করা হবে। সেখানে জুনিয়র ডাক্তাররা তাদের মতামত জানাতে পারেন।
জুনিয়র ডাক্তারদের বক্তব্য
মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিধাননগরে বিক্ষোভস্থলে এসে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিরা জানান, রাজ্য সরকার আমাদের কাছে নতিস্বীকার করেছে। ৩৮ দিন পর আমাদের জয় হয়েছে। এই জয় সাধারণ মানুষ, চিকিৎসক, নার্স সকলের। সকলের সমর্থন না থাকলে এটা হতো না।
তবে তারা জানায়, তারা আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে এখনই বিক্ষোভ ও কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন না। সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। তারা সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিকেও নজর রাখবেন বলে জানায়।
সূত্র: ডয়চে ভেলে








