ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। লুফথানসা, কেএলএম রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্স, এয়ার ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ‘অপ্রত্যাশিত’ভাবে ফ্লাইট বাতিল ও রুট পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও তেহরানের দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর তাদের ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করেছে।
ফ্লাইট বাতিল ও রুট পরিবর্তনের ফলে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক গন্তব্যে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি প্যারিস–দুবাই রুটে ফ্লাইট বাতিল করেছে। সংস্থাটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সাময়িকভাবে এই পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, কেএলএম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই, রিয়াদ, দাম্মাম ও তেল আবিবগামী ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। একই সঙ্গে তারা ইরান, ইরাক, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পার এমন জল্পনার মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ও এয়ার কানাডাও ইসরায়েলগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থার দাবি, এই সংখ্যা কমপক্ষে ৫ হাজার ৩২ জনে পৌঁছেছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, প্রায় সপ্তাহব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে ইরানের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজারের কিছু বেশি বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে একাধিকবার ‘সহায়তা আসছে’ মন্তব্য করেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিয়ে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে তিনি বলেন, আমি চাই না কিছু ঘটুক, কিন্তু আমরা পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের অনেক জাহাজ ওই দিকে যাচ্ছে। সম্ভবত ব্যবহার করতে হবে না।
এপির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও আরও তিনটি ডেস্ট্রয়ার দক্ষিণ চীন সাগর থেকে পশ্চিম দিকে যাত্রা শুরু করেছে। পাশাপাশি সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর এফ–১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং বিশ্লেষকদের বরাতে এপি আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক ডজন মার্কিন সামরিক কার্গো বিমান এই অঞ্চলের দিকে গেছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্পের ‘আর্মাদা’ মন্তব্যের পর এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো ধরনের হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন। তার ভাষায়, এই সামরিক উপস্থিতি প্রকৃত সংঘর্ষের উদ্দেশ্যে না হলেও আমাদের সেনাবাহিনী সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। সীমিত বা পূর্ণমাত্রার যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর।







