টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের সাবেক বিশ্বসেরা ব্যাটার ডেভিড মালান এবারের বিপিএলে আছেন ফরচুন বরিশালের স্কোয়াডে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এই ইংলিশ ব্যাটার বাংলাদেশে আসলেও কেবল একটি ম্যাচ খেলা হয়েছে এবারের আসরে। খেলার সুযোগ না মেলায় কিছুটা হতাশা থাকলেও তবে ক্রিকেট-ক্যারিয়ারে মালান যা কিছু হতে পেরেছেন, তার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ তিনি।
গত আগস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন মালান। ইংল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণে ১১৪ ম্যাচ খেলেছেন। ৩০ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের জার্সিতে অভিষেকের হওয়ার আগে নিয়মিত খেলেছেন বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে, কঠিন কন্ডিশনের জন্য ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে যে সব ঘটনার ভূমিকা ছিল, তাতে ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে কৃতজ্ঞতা জানালেন বাংলাদেশের প্রতি।
শনিবার ফরচুন বরিশালের অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিশেষ ভাবে বাংলাদেশকে স্মরণ করলেন ৩৭ বর্ষী ইংলিশ ব্যাটার। বলেছেন,‘আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের বিশেষ একটি অবস্থান আছে। কয়েক বছর আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলেছি। ১১-১২ বছর হয়ে গেছে হয়ত। পাকিস্তান সুপার লিগের মতো এই লিগও আমাকে ব্যাটার হিসেবে নিজের উন্নতি ঘটাতে, ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে ভালো করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।’
প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন মালান। এরপর ২০১৫-১৬ মৌসুমে পিএসএলে খেলে ২০১৬-১৭ থেকে বিপিএলে খেলতে শুরু করেন। প্রথমবার ছিলেন বরিশাল বুলসে, পরে খেলেছেন খুলনা টাইটানস, কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সে। একপর্যায়ে ইংল্যান্ড জাতীয় দলে তিন সংস্করণে ব্যস্ত হয়ে গেলে ২০১৯ সালের পর আর বিপিএলে আসেননি। এর মধ্যে ২০২০ সালে আইসিসি টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে ওঠেন, ২০২১ সালে খেলেন আইপিএলেও।
এ সব অর্জনে ভূমিকা রাখায় বিপিএলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইংলিশ ব্যাটার। বলেছেন, ‘আমি বিপিএল, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি সব সময়ই কৃতজ্ঞ, তারা আমাকে খেলার সুযোগ করে দিয়ে উন্নতি করতে সাহায্য করেছে। এই সাহায্যটা না পেলে আমি যে খেলোয়াড় হয়ে উঠেছি, সেটা হয়তো হতে পারতাম না।’
বিপিএলের চলতি আসরে বরিশালের ষষ্ঠ ম্যাচে মালান নিজের প্রথম ম্যাচ খেলেছেন। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ৪১ বলে ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলে যোগ দিলেও ম্যাচ খেলতে না পেরে কিছুটা হতাশ মালান। বলেছেন, ‘যখন একসঙ্গে ৪টা লিগ চলছে, কিন্তু একটাতে পুরো আসরের জন্য চুক্তি করে বসে থাকতে হয়, সেটা তো হতাশারই। বিশেষ করে যখন অন্য লিগে খেলার সুযোগ ছিল।’
এবারের বিপিএলে বিপিএলের পিচের প্রশংসা করেছেন মালান। বলেছেন, ‘বিপিএল খুব ভালো হচ্ছে। আগের ম্যাচগুলো খেলতে না পেরে হতাশ কারণ সিলেটের উইকেট খুবই ভালো ছিল। চট্টগ্রামের উইকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা উইকেট। বাংলাদেশে আসলে চ্যালেঞ্জটা হলো আমরা আমাদের অভ্যস্ত উইকেট পাই না। তবে এবার বাকি দুই ভেন্যুও ভালো ছিল। আশা করি এটা ধরে রাখা হবে। এতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দেরই উন্নতি হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেরাটা খেলতে হলে ভালো উইকেটে খেলতে হবে। খেলোয়াড়দের অ্যাটাকিং পাওয়ার তৈরি হবে, রান তাড়ার মানসিকতা তৈরি হবে, চাপ সামলাতে পারবে… তাই ভালো উইকেট যত হবে, তত উন্নতি হবে।’
বাংলাদেশের লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনকে নিয়েই ইংলিশ ব্যাটারের উচ্ছ্বাস বেশি, ‘রিশাদ ফ্যান্টাস্টিক। তাকে দেখে বাংলাদেশের অনেকে লেগ স্পিনে অনুপ্রাণিত হবে। সব আন্তর্জাতিক দলেই এখন লেগ স্পিনার আছে যাদের খেলা অনেক কঠিন। রিশাদকে যত বেশি সম্ভব খেলাতে হবে, যত বেশি খেলবে তত সমৃদ্ধ ও পরিণত হবে। যেমন বললাম বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে খেলে আমার খেলা সমৃদ্ধ হয়েছে। তাকে যত বশি সম্ভব লিগ খেলতে দিতে হবে, তাতে স্কিল বাড়বে, খেলায় উন্নতি হবে।’








