ঢাকা ক্লাবে রবিবার অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, মূলধারার চলচ্চিত্র ও সাহিত্যকর্মে এখনো নারীদের একমাত্রিক ও স্টেরিওটাইপ চরিত্র হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীরা পরিকল্পিতভাবে আক্রমণের শিকার হলেও এটি এখনো এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নারীরা নিজেদের কণ্ঠস্বর জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারছেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ডিজিটাল মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নারী নির্মাতাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চলচ্চিত্র নির্মাণে নারীদের জন্য নতুন এক আশার সঞ্চার করছে।
রবিবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ১২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক নারী চলচ্চিত্র সম্মেলন ২০২৬–এর উদ্বোধনী দিনের আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। চলমান ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব–এর অংশ হিসেবে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
‘When Women Shape the Frame: Contribution and Empowerment of Women in Asian Cinema’ শীর্ষক এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিহারিকা নাজ।
আলোচনাটি সভাপতিত্ব করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। আলোচক হিসেবে অংশ নেন ফিলিপাইনের অভিনেত্রী জেরাল্ডিন ভিলামিল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা আমিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইশরাত খান।
প্রবন্ধ উপস্থাপনে নিহারিকা নাজ বলেন, সিনেমায় নারীর ভূমিকা কেবল অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিচালক, লেখক, সম্পাদক কিংবা প্রযোজক হিসেবে নারীদের দর্শন গড়ে ওঠে পর্যবেক্ষণ, সহমর্মিতা ও সূক্ষ্মতার ভিত্তিতে। তারা সম্পর্ক, পরিচয়, হারানো ও আশার মতো বিষয়গুলো বাস্তব জীবনের খুঁটিনাটির প্রতি সংবেদনশীল থেকে উপস্থাপন করেন।
তিনি আরও বলেন, নারী নির্মাতারা প্রচলিত স্টেরিওটাইপ ভেঙে গল্পে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনেন এবং মনে করিয়ে দেন—মানুষ কখনোই একমাত্রিক নয়। ক্ষমতার গল্প বলার সময় তারা কেবল শক্তির নয়, বরং দুর্বলতা, সহমর্মিতা ও দৃঢ়তার দিকটিও তুলে ধরেন।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হয় সোমবার। সম্মেলনের আলোচনাগুলো এশীয় চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে নতুন করে ভাবনার জায়গা তৈরি করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।







