‘আমার মনে হয় আমি একা না, বাংলাদেশের টপঅর্ডারের সব ব্যাটসম্যানই এখন চিন্তা করে, টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে যাবো আর ১০০ মেরে দেবো এটা তো খুব সহজ কাজ না। যদিও বিশ্ব ক্রিকেট অন্যভাবে চলছে। আইপিএলের কথা বলব না। কারণ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে একেবারেই অন্যরকম খেলা হয়। যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখেন, বিশ্বকাপে শতক হয়। তবে খুব বেশি হলে দুই-একটা ব্যাটসম্যান টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এমনটা করে।’
বিসিবি বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করছে। দলের সঙ্গে থাকা কোচ এবং খেলোয়াড়রা জানাচ্ছেন ভাবনা। মঙ্গলবার প্রকাশিত ভিডিওতে কথা বলেছেন লিটন দাস। তার কথা, টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে শতক হাঁকানোটা সহজ নয়। তবে বাংলাদেশ দলের কারোর সেই সম্ভাবনাটা আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি উড়িয়ে দেননি।
২০১৬ বিশ্বকাপে টাইগারদের খেলতে হয়েছিল বাছাইপর্ব। ওমানের বিপক্ষে ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তামিম ইকবাল। লাল-সবুজের জার্সিতে টি-টুয়েন্টিতে যেটি ছেলেদের ক্রিকেটে একমাত্র সেঞ্চুরির নজির। মাঝে আট বছর পেরিয়ে গেলেও তিন অঙ্কের ঘরে আর কেউ যেতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এবারের আসর শুরুর আগে লিটন অবশ্য বললেন, ‘আমাদের সেই সুযোগ আছে। টপঅর্ডারের ব্যাটসম্যানরা খুবই ভালো। চেষ্টা সবার ভেতরেই থাকবে।’
‘২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে আমাদের টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে দল অনেকটা ভারসাম্যপূর্ণ বলে আমার মনে হয়। আমরা অনেকগুলো সিরিজও জিতেছি এবং ভালো টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট খেলছি। এমন না যে এমনিতেই জিতে যাচ্ছি। আমরা ভালো দলগুলোর সাথেও জিতেছি, আর ভালো ক্রিকেট খেলেও জিতেছি। আমার কাছে মনে হয় অবশ্যই বিশ্বকাপে আলাদা একটা চাপ থাকবে। কোনো সন্দেহ নেই, এটা সব দলেরই থাকে। আমরা যদি খুব ভালো ক্রিকেটটা খেলতে পারি, সেটা সম্ভব। ক্রিকেটের ভাষায় যেটা বলে শান্ত আর ঠাণ্ডা থেকে যদি ক্রিকেটটা খেলা যায়, ভয়হীন ক্রিকেট খেলে ফল নিয়ে চিন্তা না করে যদি খেলা যায়, আমাদের ভালো সুযোগ আছে।’
ব্যাট হাতে লিটন দাসের সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে কোথাও হাসছে না তার ব্যাট। তার উপলব্ধি, ভালো সময়ে পারফরম্যান্সটা ধরে রাখাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
‘আপনি এক ম্যাচ ভালো খেলবেন, মাথার ভেতর অনেককিছু থাকতেই পারে। আমি তো ভালো খেলছি। অমনোযোগী একটা ভাব চলে আসে। আমার মনে হয় ভালো সময়ে যে মানুষটা বেশি পরিশ্রম করে যাচ্ছে অবিরামভাবে, চিন্তাধারা ভালো থাকে, সেটা কাজে দেয়। যদি একটা উদাহরণ দেই, এই মুহূর্তে বলতে পারি তাওহীদ হৃদয়ের কথা। দেখবেন শেষ কিছু ম্যাচ সে খুবই ভালো খেলছে। সে ওই গতিবেগটা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা একটা বড় দিক।’







