বাবা সিদ্দিকিকে হত্যার পর থেকেই বলিউড অভিনেতা সালমান খানের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন মহারাষ্ট্র সরকার। আঁটসাট করা হয়েছে সুপারস্টারের নিরাপত্তা। যেন দম ফেলবার ফুরসত নেই মুম্বাই পুলিশের।
এরই মাঝে মুম্বাই পুলিশের কাছে অনবরত হুমকি ফোন আসছে, সালমানকে প্রাণে মেরে ফেলার।
এবার তেমনই এক হুমকি ফোনের সূত্র ধরে এক উঠতি গীতিকারকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। জানা গেছে, গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে পাঁচ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন সেই অভিযুক্ত।
মুম্বাই পুলিশের দাবি, মাত্র ২৪ বছর বয়সী সেই গীতিকারের নাম সোহেল পাশা। যিনি কর্ণাটকের রায়চুরের বাসিন্দা। মূলত সোহেল পাশা তার লেখা একটি গান বিখ্যাত করতে চেয়েছিলেন এবং এর জন্যই সোজা সালমান খানকে হুমকি দেওয়ার কৌশলকে কাজে লাগান তিনি।
গত ৭ নভেম্বর মুম্বাই ট্রাফিক পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইনে একাধিক মেসেজ আসে যেখানে লেখা থাকে যে, প্রেরক বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য এবং ৫ কোটি টাকা না দিলে সালমান খানকে মেরে ফেলা হবে। তারা ‘ম্যায় সিকান্দার হুঁ’ গানের রচয়িতাকেও হত্যা করবে বলে প্রেরক হুঁশিয়ারি দেন।
মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সেই মোবাইল নম্বরটি সন্ধান করেছিল যে নম্বর থেকে ওই হুমকি বার্তা আসে। সেই অনুযায়ী একটি দল কর্ণাটকে পাঠানো হয় এবং ওই নম্বরের মালিক ভেঙ্কটেশ নারায়ণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু নারায়ণের মোবাইল ফোনে কোন ইন্টারনেট পরিষেবা ছিল না। পুলিশ তখন জানতে পারে যে তার ফোনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টলেশন ওটিপি ছিল।
নারায়ণ পুলিশকে জানিয়েছেন, ৩ নভেম্বর এক অপরিচিত ব্যক্তি বাজারে তার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেন যে ফোন করার জন্য তিনি নারায়ণের ফোন নিতে পারেন কিনা। তদন্তে জানা গিয়েছে, ওটিপি পাওয়ার জন্য নারায়ণের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিজের মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ পরিষেবা চালু করেন অভিযুক্ত। এরপরে ক্রাইম ব্রাঞ্চের দলটি রায়চুরের নিকটবর্তী মানাভি গ্রামে পাশার খোঁজে বার হয়।
তিনি হুমকিতে উল্লিখিত ‘ম্যায় সিকান্দার হু’ গানের লেখক আর কেউ নন ওই পাশা। তিনি নিজের গানটি বিখ্যাত করতে চেয়েছিলেন এবং তাই একজন বিখ্যাত ব্যক্তিকে হুমকি বার্তায় নিজের গানের নাম জুড়ে দেন। তদন্তের স্বার্থে পাশাকে মুম্বাইয়ে এনে ওরলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।- হিন্দুস্থান টাইমস







