নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন টেস্ট সিরিজের প্রথম দুম্যাচের জন্য ১৩ জনের দল দিয়েছিল ইংল্যান্ড। বৃহস্পতিবার লর্ডসে শুরু প্রথম ম্যাচে একাদশে সুযোগ না পাওয়া হ্যারি ব্রুক এবং ক্রেগ ওভারটন অতিরিক্ত ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। একসময় স্টুয়ার্ট ব্রডও মাঠের বাইরে গিয়েছিলেন।
অভিষেক টেস্টে কিউই ব্যাটিং অর্ডার ধসিয়ে দিয়ে ৪ উইকেট তোলা ডানহাতি পেসার ম্যাটি পটসও চোটে পড়ায় সেসময় স্বাগতিকদের ফিল্ডার সঙ্কট দেখা দেয়। তার জায়গাতেই ফিল্ডিং করতে নামেন কাউন্টি ক্লাব এসেক্সের ক্রিকেটার রবিন দাস। যাকে ঘিরেই এখন আলোচনা।
২০ বর্ষী রবিনের জন্ম ইংল্যান্ডের লেটনস্টোনে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে তার একটি সংযোগ আছে। সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলায় তার আদি বাড়ি। তার বাবা মৃদুল দাস সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
রবিন মূলত ডানহাতি ব্যাটার। ২০১৮ সালে এসেক্স অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। ঠিক ২০০ রানে অপরাজিত থাকেন। সেই ম্যাচে সেঞ্চুরির পর ডাবল ছুঁতে মাত্র ৮ ওভার সময় নেন। ইনিংসের শেষ ওভারে নিয়েছিলেন ২৪ রান। শেষ বলে ছক্কা মেরে করেন ডাবল সেঞ্চুরি।
ম্যাচে এদিন ৯.২ ওভার বোলিং করে ৪ মেডেনসহ ১৩ রানে ৪ উইকেট নেন পটস। ইনজুরিতে পড়ায় তিনি মাঠ ছাড়ায় নিউজিল্যান্ড ইনিংসের ৩৮তম ওভারের বাকি চার বল করেন অধিনায়ক বেন স্টোকস। সেই ওভার শেষ হতেই ব্রড মাঠে নামেন এবং রবিন সাজঘরে ফিরে যান।
কেবল ওই চার বলের জন্য ফিল্ডিংয়ে নামলেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রবিন আলোচনায় চলে এসেছেন। ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া এ ক্রিকেটার এসেক্স একাডেমির মাধ্যমে উঠে এসেছেন। ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গেও ট্রেনিং করেছেন। ২০১৯ সালে রবিন এসেক্স একাডেমির বর্ষসেরা ক্রিকেটার হন।
এসেক্স একাডেমির ডিরেক্টর ব্যারি হায়াম ২০২০ সালে রবিনের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘সে লাল এবং সাদা উভয় বলের ক্রিকেটেই দুর্দান্ত ফর্ম দেখিয়েছে। যদিও সম্ভবত সাদা বলের ক্রিকেটের দিকেই কিছুটা ঝুঁকেছিল। সে ভীষণ শক্তিশালী, নিখুঁতভাবে বল পেটাতে পারে এবং খেলার বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ করতে পারে।’
এসেক্সের দ্বিতীয় একাদশের হয়েও খেলেছেন রবিন। তার বড় ভাই জোনাথন জয় দাস এসেক্সের দ্বিতীয় একাদশের একজন উইকেটরক্ষক।
লর্ডস টেস্টে রবিনের সঙ্গে বদলি ফিল্ডার হিসেবে নেমেছিলেন এসেক্সের আরেক খেলোয়াড় নিখিল গোরান্টলা। এসেক্স তাদের টুইটারে রবিন ও নিখিলকে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের দায়িত্ব পালনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
এসেক্স ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর জাওয়ার আলী বলেছেন, ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে দেখে ভালো লাগছে। আশা করি, ভবিষ্যতে রবিন ইংল্যান্ডের জার্সিতেও খেলবে।’







