রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত বৈশাখী শোভাযাত্রা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সকাল থেকেই উৎসবপ্রিয় মানুষের ঢল নামে চারুকলায়। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন শোভাযাত্রায়। ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা জাতীয় পতাকা বহন করেন এবং বাদ্যযন্ত্রীরা পরিবেশনায় অংশ নেন।

এবারের শোভাযাত্রায় লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে নির্মিত বাঘ, হাতি, ময়ূর ও মা-শিশুর বিশাল মোটিফ শোভাযাত্রাকে করেছে দৃষ্টিনন্দন। মূল বার্তা রাখা হয়েছে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণমুখী আগামীর প্রত্যাশা।
শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রতীকী মোটিফ. মোরগ, দোতারা/বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়। শিক্ষার্থীরা বাঁশ ও বেত দিয়ে কাঠামো তৈরি করে রঙ-তুলির মাধ্যমে এসব শিল্পকর্ম সম্পন্ন করেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হয়। ক্যাম্পাসে মুখোশ, ব্যাগ, ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ভুভুজেলা বাঁশি ব্যবহার ও বিক্রিও নিরুৎসাহিত করা হয়।
ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি, আর্চওয়ে স্থাপনসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দোয়েল চত্বর, কার্জন হলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারি। পাশাপাশি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম, অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প ও ভ্রাম্যমাণ পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে।
নববর্ষ উপলক্ষে চারুকলা অনুষদে সাংস্কৃতিক আয়োজনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চৈত্র সংক্রান্তির বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বকুলতলায় লোকসংগীত ও নৃত্য পরিবেশিত হয়েছে। এছাড়া ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ‘বাগদত্তা’ ও ‘দেবী সুলতানা’ শীর্ষক যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।







